অভিনেতা মোশাররফ করিমের বর্তমান জীবন কাটছে তুমুল ব্যস্ততায়। তবে এই কর্মব্যস্ত সময়ের ভিড়েও তার স্মৃতিপটে এখনো অমলিন থিয়েটারের সেই শুরুর দিনগুলো। বন্ধুদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো আড্ডা আর একসঙ্গে পথ চলার রোমাঞ্চকর দিনগুলোর কথা আজও তাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি নিজের ফেলে আসা জীবনের সেই সোনালি সময় ও বই পড়ার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের ধাক্কা শ্রেণিকক্ষে। ব্লেন্ডারস চয়েস- ওটিটি অ্যাওয়ার্ডস / দেশের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল কনটেন্ট পুরস্কারের পঞ্চম আসর আজ, মনোনয়ন পেলেন যারা। কত দিন যে আমি আর চন্দন আড্ডা দিয়েছি, তার হিসাব নেই।’।
আড্ডাপ্রেমী মোশাররফ করিম বলেন, থিয়েটারের শুরুর জীবনে তিনি প্রচুর আড্ডা দিতেন। এখনো সময় পেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পছন্দ করেন, তবে সেই আগের সময়ের প্রাণবন্ত আড্ডার স্বাদ যেন এখন আর পাওয়া যায় না। তিনি জানান, সেই সময়কার আড্ডার একটা আলাদা সৌন্দর্য ছিল যা তাকে এখনো টানে। ভারত প্রস্তাব দিলে পুনরায় চালু হতে পারে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ওর ছড়ায় সত্যিই অন্য রকম মুগ্ধতা ছিল।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি প্রয়াত ছড়াকার ওবায়দুল গণি চন্দনের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তার মতে, আড্ডা জমিয়ে রাখতে চন্দনের জুড়ি ছিল না। ফজলুল কবীর তুহিন, বাকীউল আলম এবং চন্দনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্বের অনেক স্মৃতি রয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জীবন যে এত দ্রুত বদলে যাবে এবং এত কাজের চাপে পড়ে যাবেন, তা কখনো ভাবেননি। চন্দনও এত দ্রুত পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে, কেউ ভাবিনি।
নাট্যকেন্দ্র দলের সদস্য হিসেবে কাজ করার সময়ের কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, তখন তিনি খিলগাঁওয়ে থাকতেন। মঞ্চ নাটকের মহড়ার জন্য সেখান থেকে হেঁটে বেইলি রোডে দলের কার্যালয়ে যেতেন তিনি। সেই সময়ের কথা মনে পড়লেই তিনি নস্টালজিক হয়ে যান।
অভিনয় জীবনে ঘটে যাওয়া একটি মজার ঘটনার কথাও শেয়ার করেন তিনি। একবার একটি নাটকের সম্মানি বাবদ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও ভুলে তাকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। ভুল বুঝতে পেরে তিনি সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য হন্যে হয়ে আয়োজকদের খোঁজ করেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা গুনে দেখেন, পেয়েছেন ৪০ হাজার।
ব্যক্তিজীবনে গৃহস্থালি কাজের চেয়ে থিয়েটারের প্রতি তার ঝোঁক ছিল বেশি। নিজের স্বভাব নিয়ে তিনি বলেন, কখনো বাজার করা বা বাড়ির কাজের দায়িত্ব তিনি নেননি, কিন্তু থিয়েটারের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে তার কখনো দ্বিধা ছিল না। মঞ্চের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি সেইসব কাজ আনন্দের সাথে করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস তার দীর্ঘদিনের। বর্তমানে তিনি মিহির সেনগুপ্তের ‘সিদ্ধিরগঞ্জের মোকাম’ বইটি পড়ছেন। এছাড়া রশীদ করিমের ‘উত্তম পুরুষ’ এবং শওকত আলীর উপন্যাসগুলো তার প্রিয় তালিকায় রয়েছে। লেখার চেয়ে মূলত কবিতা পড়তেই তিনি বেশি পছন্দ করেন।
প্রিয় কবি হিসেবে তিনি জয় গোস্বামীর কথা উল্লেখ করেন। কবি জয় গোস্বামী তাকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন, যা তার কাছে জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। বাংলা পত্রিকায় সেই কবিতা প্রকাশের পর তিনি অবাক ও মুগ্ধ হয়েছিলেন বলে জানান।
জীবনের এই পর্যায়ে এসে মোশাররফ করিম উপলব্ধি করেন, ফেলে আসা জীবনের সেই আড্ডার দিনগুলো তিনি ভীষণ মিস করেন। এখনো কাজের ফাঁকে সেই পুরনো সময়ের কথা মনে পড়ে তার, যা তাকে বর্তমানের বাস্তবতায় এক ধরনের মিশ্র অনুভূতির জন্ম দেয়।