পরিচালক হিসেবে ‘লাপাতা লেডিজ’ দিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হওয়ার পর কিরণ রাও এখন ব্যস্ত তাঁর নতুন প্রজেক্ট ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ নিয়ে। এই অ্যান্থলজি ছবির প্রচারের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের প্রেম, সম্পর্ক এবং যৌনতা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। কিরণ মনে করেন, আগের প্রজন্মের তুলনায় আধুনিক তরুণদের সম্পর্কের ধরন অনেক বেশি খোলামেলা এবং স্বাধীন। এবার তাঁর নতুন কাজ ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’। কিরণ বলেন, ‘আমি বরং স্বাধীন শব্দটি ব্যবহার করব। শুধু আবেগ নয়, শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও সেই সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছে। এটা যৌনতা ও নিজের প্রয়োজন বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়: ৪১–এ পা দিয়ে রাধিকা।
অনেকে তরুণ প্রজন্মের সম্পর্কগুলোকে কিছুটা ‘হালকা’ মনে করেন, তবে কিরণ এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি এই সম্পর্কের বৈশিষ্ট্যকে ‘স্বাধীন’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পছন্দ করেন। কিরণের মতে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে স্বাধীনতার চর্চা অনেক বেশি এবং তারা আগের তুলনায় অনেক বাধাহীনভাবে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে সক্ষম। তিনি বলেন, পৃথিবীর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নিজেদের প্রকাশ করার ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যা তিনি তাঁর নতুন গল্পে অনুসন্ধান করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে অবশ্য পুরোপুরি একমত নন কিরণ।
তাঁর এবারের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে দুজন অবিবাহিত তরুণ-তরুণী, যারা একে অপরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ বোধ করে। সম্পর্কের শুরুর দিকে তারা নানা সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয় এবং সেই সিদ্ধান্তগুলোই তাদের জীবনে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্ম দেয়, যা গল্পের অন্যতম আকর্ষণ। কিরণ জানান, এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যেই একটা ভিন্নরকম মজা লুকিয়ে আছে, যা তিনি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তারা যখন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কী ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে।
কিরণ নিজের প্রজন্মের সঙ্গে বর্তমানের একটি বড় পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, একসময় বিয়ে ও প্রেমের সম্পর্ককে সমাজ নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে দেখতে অভ্যস্ত ছিল। বিয়ের আগে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বা গভীর আবেগের সম্পর্ককে সে সময় অস্বাভাবিক বা সামাজিক প্রত্যাশার বাইরে মনে করা হতো, বিশেষ করে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে। তবে বর্তমানে সেই সামাজিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
বর্তমান সময়ে বিয়ের প্রয়োজন ছাড়াই মানুষ একে অপরের সঙ্গে গভীর, আবেগপূর্ণ এবং শারীরিকভাবে পরিপূর্ণ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। কিরণ মনে করেন, পৃথিবী এখন আর আগের মতো নেই। তিনি বিষয়টিকে কেবল প্রেমের গল্প হিসেবে দেখছেন না, বরং নতুন প্রজন্মের নিজেদের আবিষ্কার করার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উপভোগ করার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আর বিষয়টি সেভাবে নেই।’।
সবশেষে তিনি জানান, ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর লক্ষ্যই হলো নতুন প্রজন্মের এই সতেজতা ও স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তিতে প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্কের জটিল সমীকরণগুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে যে প্রেমের সংজ্ঞা ও সম্পর্কের কাঠামো বদলে যাচ্ছে, সেটাই তাঁর কাজের মূল উপজীব্য বিষয়।