গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জুয়েল আহমেদ (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়া হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।পিবিআইয়ের ভাষ্য, জুয়েল জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পিবিআই গাজীপুর জেলার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর বিকেলে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর মুঠোফোনে কল করে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মার্কেটে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ওই ব্যবসায়ীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলটন হোসেন বাদী হয়ে বাসন থানায় মামলা করেন।মামলার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই গাজীপুর জেলা। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে বাসন থানার দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, জুয়েল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছিলেন। একপর্যায়ে ক্যাসিনোতে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ করেন। ঋণ পরিশোধের জন্য মার্কেটের সামনে থাকা সাইনবোর্ড থেকে মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, চাঁদা না দিলে মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকির পর ভয়ে ওই ব্যবসায়ী বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে তিন হাজার টাকা দেন। পরে আরও দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর সোমবার ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ওই মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এতে মার্কেটের বড় একটি অংশ পুড়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়। আগের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করেই নতুন করে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পিবিআইয়ের ভাষ্য।পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ায় আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।