চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের এক রেঞ্জ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের এভিয়ারি পার্ক এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। হামলায় আহত মেহরাজ উদ্দিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার হিসেবে কর্মরত আছেন। নেত্রকোণায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা। ৪ বছরেই অচল ১৮ লোকোমোটিভ, রক্ষণাবেক্ষণে ৬৮০ কোটির চুক্তি করতে চায় রেল। ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে হত্যা, মরদেহ ফেলা হয় খালে: পিবিআই।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ইকো পার্কের পিকনিক স্পট ও গাড়ি রাখার জায়গা থেকে তিনটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানের সময় বাধার মুখে পড়লে তারা কাজ শেষ না করেই রেঞ্জ অফিসে ফিরে যাচ্ছিলেন। মেহরাজের অভিযোগ, এরপরই দুপুর সোয়া ১টার দিকে একদল লোক কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু সেখানে উপস্থিত হন এবং কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়া ইকো পার্কের জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর অন্তত ২০০ জনের একটি দল জড়ো হয়ে মেহরাজের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
মেহরাজ উদ্দিন জানান, সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা তার ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (সহকারী কমিশনার) আমাকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সফল হননি।’ এই হামলায় তার মাথা, কপাল, কাঁধ ও ডান চোখের নিচে আঘাত লেগেছে। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে আনোয়ার, আহমাদুল হক ও মোহাম্মদ হোসেন বনভূমি দখলের একাধিক মামলার আসামি বলে জানিয়েছেন মেহরাজ। তবে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, উচ্ছেদের সময় এক বিধবা নারীর ঘর ভেঙে দেওয়ায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেছিলেন মাত্র, কিন্তু কাউকে মারধর করা হয়নি। অপর অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদ দাবি করেন, বন বিভাগ টাকা না পাওয়ায় ঘরগুলো উচ্ছেদ করেছে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন দ্ডেইলি স্টারকে বলেন, বন বিভাগের লোকজন এক বিধবা নারী ও এক হুজুরের ঘর ভেঙে দিয়েছিলেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। বন কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বন বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেনও একই দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এভিয়ারি পার্কে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ বহু বন্যপ্রাণী চুরি হয় এবং ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্যাবল কার ভাঙচুর করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এভিয়ারি পার্কে লুটপাট চালিয়ে হরিণ, পাখিসহ কয়েকশ বন্যপ্রাণী নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ৫ দিন বন্ধের পর বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক।