1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কাতারে প্রবাসী ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন সোহেলের নতুন ওয়্যারহাউস উদ্বোধন রূপগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে উত্তরায় টানা তৃতীয় দিনেও শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ইস্তাম্বুলে বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার বান্দরবানের নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী ঢাবিতে নিকাব বিতর্ক ও শিক্ষককে বিরতি: শ্রেণিকক্ষটা তাহলে কার সৌদি আরবে আরামকো ও বিমানবন্দরে হুথিদের বড় ধরনের হামলা শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ব্যয় বাড়ল ৭৬৫ কোটি টাকা তিন মাসে ব্যাংক থেকে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সংশ্লিষ্ট নতুন কৌশলে ডুবল দুই জাহাজ

রূপগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চরম এলপিজি গ্যাস সংকটে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ স্থানীয় বাজারে একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা বা তারও বেশি মূল্যে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩৬৩ থেকে ৪৬৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা, অন্যদিকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হচ্ছে পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকান ও ডিলারের কাছে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যারা কোনোমতে সংগ্রহ করতে পারছেন, তাদের চড়া দাম দিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী গৃহিণী আলেয়া বেগম জানান, ফ্ল্যাটবাড়িতে রান্নার অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় বাড়তি দামেই গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একই পরিস্থিতির শিকার রোকেয়া বেগম জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাওয়া দুষ্কর, আর পেলেও গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চা-দোকানি সেলিম মিয়া জানান, ৪৬৩ টাকা বাড়তি দামে কিনে ব্যবসার খরচ সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকান ও ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার নেই। ফ্ল্যাট বাসায় লাকড়ি-খড়ি দিয়ে রান্না করার সুযোগও নেই।

খুচরা বিক্রেতা সজীব আহম্মেদ অভিযোগ করেন, পাইকারি পর্যায়েই তাদের ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় যোগ হওয়ায় খুচরা মূল্যে প্রভাব পড়ছে। তার দাবি, ডিলাররা অনেক সময় বেশি দাম নিলেও কোনো রসিদ প্রদান করেন না। এই সংকট নিয়ে ডিলারদের ভাষ্য ভিন্ন। ফ্রেশ গ্যাসের ডিলার সালমান এন্টারপ্রাইজের মালিক জানান, বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য থাকলেও কোম্পানি থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা লাভের কথা বললেও খুচরা বিক্রেতারা নিজেরাই দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।

তীর বেঙ্গলের ডিলার শুভ্র গ্যাসের ম্যানেজার সহিদ মিয়া জানান, চলতি মাসের ১ তারিখের পর থেকে তাদের কাছে কোনো নতুন সরবরাহ আসেনি। তিনি জানান, তাদের পক্ষ থেকে সর্বশেষ ১ হাজার ৯০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৫০ টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগটি তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারের অস্থিরতা বাড়ছে বলে মনে করছেন ডিলাররা। তীর বেঙ্গলের ডিলার শুভ্র গ্যাসের ম্যানেজার সহিদ মিয়া জানান, গত মাসের ১১ তারিখে কিছু সিলিন্ডার পেয়েছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সাধারণ ক্রেতারা জানান, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে এবং বাজারে কঠোর নজরদারি না বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবারগুলোর স্বাভাবিক রান্নাবান্না মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন।’।

গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহান। তিনি জানান, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun