কাতারের সড়কপথে চলাচলকারী যানবাহন ও নাগরিকদের নিরাপত্তার খাতিরে নতুন করে সচেতনতা বার্তা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি দেশটিতে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার ধরন ও কারণ পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ চারটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে চালকদের ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রথম ও অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হলো হঠাৎ এবং অসাবধানতাবশত লেন পরিবর্তন করা। চালকরা অনেক সময় পাশের লেন পুরোপুরি ফাঁকা কি না তা যাচাই না করেই দ্রুত লেন পরিবর্তন করেন, যা পেছনে থাকা অন্যান্য গাড়ির জন্য চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, গাড়ি চালানোর সময় পূর্ণ মনোযোগ বজায় না থাকাকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। মনোযোগের সামান্য বিচ্যুতি চালকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা বড় ধরণের দুর্ঘটনার পথ প্রশস্ত করে।
সামনের গাড়ির সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখাকে দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। যথেষ্ট নিরাপত্তা দূরত্ব বজায় না রাখলে সামনের গাড়িটি হঠাৎ ব্রেক কষলে পেছনের চালক গাড়ি থামানোর পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পান না, ফলে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। একইভাবে, কোনো সংযোগ সড়ক থেকে মূল রাস্তায় প্রবেশের সময় তাড়াহুড়া করা বা রাস্তা ফাঁকা আছে কি না তা না দেখে হঠাৎ গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়াকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস হিসেবে দেখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সচেতনতা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো কাতারজুড়ে দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা এবং প্রতিটি নাগরিক ও প্রবাসীর জন্য যাতায়াত নিরাপদ রাখা। নিয়ম মেনে গাড়ি চালালে চালক নিজে সুরক্ষিত থাকার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।