গত মার্চে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচ চলাকালে গ্যালারি থেকে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেওয়ার দায়ে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের জরিমানা করেছে এবং পরবর্তী ম্যাচে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ৪৩ ম্যাচ অপরাজিত থেকেও সন্তুষ্ট নন স্পেন কোচ। পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে ইংল্যান্ডকে হারালো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর স্টেডিয়ামের মাইকে সমর্থকদের সতর্ক করা হয় এবং বড় পর্দায় বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শন করা হয়। ঘটনার পরপরই স্প্যানিশ পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি স্প্যানিশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্তে নামে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনাটি ঘটেছিল লা লিগার ক্লাব এস্পানিওলের ঘরের মাঠ আরসিডিই স্টেডিয়ামে। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একাট্টা ভিনিসিউস ও ইয়ামাল। ‘কে এই ইয়ামাল’ থেকে ‘আমার সন্তান তোমার ভক্ত’, বদলে গেল লেমিনার সুর।
তদন্তের শুনানিতে আরএফইএফ দাবি করেছিল যে, ‘মুসলিম’ শব্দটি কোনো অপমানজনক শব্দ নয়। তাই এটিকে বর্ণবাদবিরোধী ধারার (অনুচ্ছেদ ১৫) পরিবর্তে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বার্তার ধারার (অনুচ্ছেদ ১৭) অধীনে বিচার করার অনুরোধ জানায় তারা। তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেয়। সংস্থাটির মতে, নির্দিষ্ট কোনো শব্দের চেয়ে প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ; যদি কোনো শব্দ কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তবে তা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবেই গণ্য হবে। ‘তারা বলেছিল ছোট দুর্ঘটনা, গিয়ে দেখি ধুলার মধ্যে ছেলের মরদেহ’। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বৈষম্যমূলক আচরণের বিচারের ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করতে হবে এমন নয়।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন স্পেনের তরুণ তারকা উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল। ইসলাম ধর্মাবলম্বী এই ফুটবলার বিষয়টিকে চরম অসম্মানজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন এবং এর সাথে জড়িতদের বর্ণবাদী হিসেবে আখ্যা দেন। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দল থেকে নেই চারজন, ফিরলেন ফারমিন ও হাউসেন। এক্সপ্লেইনার / উত্তর আফ্রিকায় কেন স্পেনের ভূখণ্ড।