আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় লাল-সবুজরা। এই পরাজয় ফাইনালে ওঠার পথকে বেশ কঠিন করে তুলল। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৪০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শেষ দশ ম্যাচের আটটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ‘নাইন এমএম পিস্তল নিয়ে ওরা বসে আছে, আমাকে গুলি করবে’। আবুধাবির মাঠে ২৭২ রানের লক্ষ্যটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বটে। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৯৯ রানে। ওয়ানডেতে ২৪০ রানের বেশি তাড়া করার লক্ষ্য থাকা এমন সবশেষ দশ ম্যাচের আটটাই হেরেছে তারা।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের তোপে শুরুতেই চাপে পড়া জিম্বাবুয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। তবে এরপর ম্যাচের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলর। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৫০ রানের জুটি জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু। সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার। ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্গাপূজার পুতুল শোভাযাত্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বার্তা। ভালো অবস্থা থেকে ক্রমেই বদলাতে থাকল গল্প, একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকল বাংলাদেশ। যে গতিতে রান আসছিল মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ সম্ভবত অনায়াসেই জিতে যাবে।
আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ এবং টেইলর ১০১ বলে ৮১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪৪ রানে ৩টি এবং শরিফুল ইসলাম ৪৭ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন। বিনা উইকেটে ৪৭ থেকে ৮ উইকেটে ১২৯ রানে পরিণত হওয়া দল পরে টেল-এন্ডারদের কল্যাণে হারের ব্যবধান কমায়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। তবে সপ্তম ওভারে সৌম্যর বিদায়ে ছন্দপতন ঘটে। ৪৭ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পথ হারায় বাংলাদেশ। তানজিদ ৩৮ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তানজিদ ভাগ্যের সহায়তায় একাধিকবার বেঁচেও বড় করতে পারেননি নিজের সম্ভাবনাময় ইনিংস।
তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ৯ বলে ৪ রান করে ব্র্যাড ইভান্সের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেনও ব্যর্থ হন। হৃদয় ১৩ এবং মোসাদ্দেক ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন। শান্ত আউটের পাশাপাশি অহেতুক একটা রিভিউও নষ্ট করে যান। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয় এসে কীভাবে এগোবেন বুঝতে পারছিলেন না। ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন হৃদয় (২১ বলে ১৩) ও মোসাদ্দেক (১৮ বলে ১১)। হৃদয়কে ফিরিয়ে উল্লাসে মাতেন সিকান্দার রাজা।
সাইফ হাসান কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানও দ্রুত বিদায় নেন। টেল-এন্ডারদের কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ১৭২ রান পর্যন্ত যেতে পারে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে ব্র্যাড ইভান্স ৪৫ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। জেতা দূরের কথা শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সঙ্গে লড়াইও জমাতে পারলেন না তাওহিদ হৃদয়রা। আউটের আগের বলেও থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন ফিল্ডারের ভুলে। সাবেক অধিনায়ককে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউতে ছাঁটেন ব্র্যাড ইভান্স। জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বাংলাদেশের স্পিন খেলছিলেন সামনের পায়ে। কিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানের সাধ্য ছিল না একা নায়কোচিত কিছু করার।
এর আগে ২০১৯ সালের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট জয়ের অনুপ্রেরণার কথা জানিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই ছাপ রাখতে ব্যর্থ হলেন ব্যাটাররা। ওয়ানডে ফরম্যাটে দলের চলমান দুর্দশার চিত্র এই ম্যাচে আরও স্পষ্ট হলো। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে।