1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরে এক সপ্তাহে জব্দ ৯৮ লাখ টাকার স্বর্ণ ইয়েমেন যুদ্ধে নতুন করে অর্থায়ন করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রধানমন্ত্রী: জুলাইকে ধারণ করে না তাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে অনুপস্থিত সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধীদল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাজিরায় অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে এমপি ও প্রশাসন রংপুরে ঢাকি সংকট: নিজেই ঢাক বাজাচ্ছেন পূজা কমিটির সদস্যরা রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন ১ এপ্রিল থেকে জাপানে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজডুবি: সাগরে ভাসছে আইফোন ও পারফিউম

মোটরসাইকেলের সামনে হাতে লেখা নম্বর প্লেট নিয়ে লিগ্যাল নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

মোটরসাইকেলের সামনে হাতে তৈরি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করার সরকারি নির্দেশনার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী অপূর্ব মজুমদার শান্ত। এ সংক্রান্ত নির্দেশের বৈধতা ও এর আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। গত রবিবার পাঠানো এই নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এর লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব মোটরসাইকেলের সামনে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হাতে তৈরি নম্বর প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। তবে আইনজীবী অপূর্ব মজুমদারের দাবি, বিআরটিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত কোনো গণবিজ্ঞপ্তি, স্মারক নম্বর, জারির তারিখ বা এই নির্দেশনার ভিত্তি হিসেবে কোনো আইনি দলিলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে জনস্বার্থের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনকে ভিত্তি ধরে এই ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

নোটিশে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধির ১০ উপবিধির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ওই উপবিধিতে বলা হয়েছে যে, মোটরসাইকেল এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব মোটরযানকে সামনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন করার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর বিপরীতে সামনে হাতে তৈরি নম্বর প্লেট লাগানোর নতুন নির্দেশনাটি কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। যদি নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন বা নীতিমালার মাধ্যমে আগের অব্যাহতির বিষয়টি পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে তার আইনগত দলিল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি। নেটিশে বলা হয়, নম্বর প্লেটের প্রয়োজনীয়তা কিংবা সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন শনাক্তকরণের গুরুত্ব নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৩৬-এর উপবিধি (১০)-এর উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, উপবিধি (৮)-এর বিধান সত্ত্বেও মোটরসাইকেল ও প্রতিবন্ধীবান্ধব মোটরযানকে সামনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আইনজীবী তার নোটিশে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২, ১২৩ ও ১২৪ ধারার উল্লেখ করে জানতে চেয়েছেন, সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর এই নির্দেশনাটি মূলত কোন ধারার অধীনে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় জারি করা হয়েছে। এছাড়া, ১৬ ধারার উপধারা ৩-এ নম্বর প্লেট প্রদর্শন ছাড়া গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ থাকলেও, যথাযথভাবে নিবন্ধিত এবং বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি নম্বর প্লেট পেছনে লাগানো থাকলে শুধুমাত্র সামনে অতিরিক্ত হাতে তৈরি নম্বর প্লেট না থাকায় কীভাবে আইন লঙ্ঘিত হয়, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তার বক্তব্য, ১২২ ধারায় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা, ১২৩ ধারায় নির্ধারিত আইনগত শর্তসাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা এবং ১২৪ ধারায় জনস্বার্থে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিষয়ে সরকারের আদেশ জারি বা। এ অবস্থায় মোটরসাইকেলের সামনে হাতে তৈরি নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশটি ১২৪ ধারার অধীনে, আইনের অন্য কোনো বিধানের ভিত্তিতে, বিদ্যমান বিধিমালার সংশোধন করে, নাকি অন্য কোনো বৈধ আইনগত দলিলের মাধ্যমে জারি করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে।

আইনের ৭২ ধারায় ১৬ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তির বিধান থাকলেও, শুধুমাত্র সামনে হাতে তৈরি নম্বর প্লেট না থাকাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা নাগরিকদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সামনের নম্বর প্লেট না লাগালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার যে সতর্কতা দেয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তিও জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিশে।

পরিশেষে, নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায় অথবা কোনো আইনি ভিত্তি প্রদর্শন ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হবে। আইনগতভাবে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্যই তিনি এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun