রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে এখন চলছে উৎসবের আমেজ। দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে মণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা আর ঢাকের তালে নেচে গেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি কাটাচ্ছেন সবাই। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ সনাতন সমাজকল্যাণ সংঘের পূজামণ্ডপেও দেখা গেছে একই চিত্র। এই মণ্ডপে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে পূজার আচার পরিচালনা করছেন পুরোহিত অবিনাশ চক্রবর্তী। তিনি জানান, সপ্তমীর তিথি দুই দিনে পড়ায় অনেক স্থানেই শনিবার মহাসপ্তমীর পূজা শেষ হয়েছিল। সব মিলিয়ে ৩ দিনে ৩০টির বেশি মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করেছেন বলে জানান পূজা। গতকাল খামারবাড়িতে বড় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে ওই মণ্ডপে এসেছিলেন পূজা ভৌমিক। দুই হাত জোড় করে কিছুক্ষণ প্রার্থনাও করেন। এরপর কখনো একা, কখনো স্বজনদের সঙ্গে প্রতিমার সামনে ছবি ও সেলফি তোলেন তাঁরা। সরেজমিন দেখা যায়, বিকেল থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের পূজামণ্ডপে আসছেন দর্শনার্থীরা।
পূজা ভৌমিক নামের এক দর্শনার্থী জানান, গত বছর পরীক্ষার কারণে উৎসবের আমেজ সেভাবে উপভোগ করতে পারেননি। এবার চাকরিতে যোগ দিলেও ছুটির কল্যাণে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে অন্তত ৩০টির বেশি মণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন তিনি। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর মা দুর্গার প্রতিমায় প্রণাম ও প্রার্থনা শেষে সেলফি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন দর্শনার্থীরা। ছোট শিশুদের কেউ কেউ মণ্ডপের গানের তালে নেচে আনন্দ প্রকাশ করছে। ঢাকের বাদ্য আর বাতি ঝলমলে পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে মণ্ডপগুলো এখন উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মণ্ডপের সাউন্ড সিস্টেমে বাজছিল পূজার গান।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আজ পালিত হচ্ছে মহাষ্টমী। এই বিশেষ দিনে সকাল সাড়ে ৯টায় রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সন্ধিপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে এই সন্ধিপূজা সম্পন্ন হবে এবং এরপর দুপুরে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
দর্শনার্থীদের যাতায়াতেও বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রিকশায় করে মণ্ডপে আসছেন। কেউ কেউ ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে নেমে হেঁটেই মণ্ডপের দিকে যাচ্ছেন। ধামরাই থেকে আসা দেবাদৃতা কর্মকার জানান, দুর্গা মায়ের প্রতিমা দেখে তার খুব ভালো লাগছে।
বিশ্বের শান্তি কামনায় পুরোহিত অবিনাশ চক্রবর্তী বলেন, মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পৃথিবীর সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন। মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা, বন্ধন ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন আরও সুদৃঢ় হয়। মণ্ডপে আসা ভক্তদের প্রণামি এবং প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতি ভক্তি নিবেদন করতে দেখা গেছে। ঢাকের বাদ্য আর আলোকসজ্জায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।