প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া সিআইডির মামলায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান গোয়েন্দা বিভাগ গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যায় বনানী এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেয়। সিআইডির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় বাহিনীটি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তলবের ভিত্তিতে বনানী থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ধরা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজার থেকেও বিপুল পরিমাণ সোনা ও ডায়মন্ড সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এসব সোনা ও হীরা কেনাবেচার আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা পাচারের অভিযোগে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করে সিআইডি। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার প্রতিষ্ঠানের স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের উৎস এবং সরবরাহকারীদের বৈধ নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এসব পণ্যের উৎস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানায় সংস্থাটি।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের পাশাপাশি দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই সোনা ও হীরা চোরাচালান, জালিয়াতি এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে র্যাবের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় সংঘটিত কিশোর হৃদয় আহমেদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ডিবি পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদিকে, দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগের অন্ত নেই। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন।