চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গাজীরগাছখোলা গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর বসতবাড়ির যাতায়াতের পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মামুন মোল্লার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা আবদুল হাই শিকদার এই বেড়া দিয়েছেন। এতে প্রবাসীর পরিবার বাড়ির ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। আবদুল হাই শিকদার গাজীপুর মহানগর জামায়াতের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মামুন মোল্লা। এতে বাড়ি থেকে তাঁরা বের হতে পারছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি সত্য নয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী আঁখি আক্তার জানান, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত।
বাড়িতে স্কুলপড়ুয়া ছেলে ছাড়া আর কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ না থাকার সুযোগ নিয়ে জামায়াত নেতা এই বেড়া দিয়েছেন। বাড়ির সামনে চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায় রোববার সকালে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজনসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। পরে সোমবার সকালে এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আঁখি আক্তার।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবদুল হাই শিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি এর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিসহ একটি পোস্টে দাবি করেছেন, যে জমিতে বেড়া দেওয়া হয়েছে তা তাঁর পারিবারিক কবরস্থান। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু ব্যক্তি তাঁর জায়গা জবরদখল করে পাকা রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুল মোবিন এ বিষয়ে দাবি করেন, ওই নেতা যে জায়গায় বেড়া দিয়েছেন তা তাঁরই ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তবে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। গাজীরগাছখোলার রুবেল, বাবুল, জিয়া গং আমার জায়গা জোর করে দখল করে পাকা রাস্তা নির্মাণ করতে চায়।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকালে প্রবাসীর স্ত্রী আঁখি আক্তার এবং অভিযুক্ত জামায়াত নেতার পক্ষের একজন পৃথক লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে অভিযোগগুলো তদন্ত করছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষকে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।