অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা। তারা অন্য সব রাজনৈতিক দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেনীতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রুকন প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের এই প্রত্যাশা পুরণে সঠিক যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, হযরত ইব্রাহিম (আ.) যেভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, জামায়াতও ঠিক একইভাবে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব পালনে এবং জনগণের দাবি মেটাতে যেন কর্মীরা উত্তীর্ণ হতে পারেন, সেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর জন্য সুদৃঢ় ঈমান ও নিয়তের মধ্যে ইখলাস থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দ্বীনের কাজ ব্যাহত করে পার্থিব কাজে মগ্ন থাকা যাবে না। দায়িত্ব পালনকালে মুমিন কখনো নিরাশ বা ভেঙে পড়বেন না। দ্বীনের কাজের ক্ষতি করে দুনিয়ার কাজে মশগুল থাকলে চলবে না। একজন মুমিন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাবেন।
একাত্তরের ভূমিকা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মাছুম দাবি করেন, ১৯৭১ সালকে কেন্দ্র করে জামায়াতের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ তোলা হয়, তার সবই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আয়োজিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, এই সনদ বাস্তবায়ন করা না হলে পুনরায় রাজপথে নেমে আন্দোলন করার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। একাত্তর প্রসঙ্গে মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেন, ১৯৭১ সাল নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়, সেগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।
ফেনী জেলা জামায়াতের মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান এবং পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুর রহিম। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অপর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচকদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির পরিবেশবিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম, সাবেক ফেনী জেলা আমির একেএম শামছুদ্দিন, নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খোন্দকার, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা ফারুক আহমাদ, ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা লন্ডনপ্রবাসী নেতা অধ্যাপক মফিজুর রহমান এবং জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউছুফ।
অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দারসুল কোরআন পেশ করেন সাবেক জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা।