1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে সড়কে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়: দুই থানার দায় এড়ানোর

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারি সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় গত সোমবার দিনব্যাপী এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সকাল ও দুপুরের দিকে দুই দফায় অন্তত ৬০টি যানবাহনে এই লুটপাট চালানো হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় সাতজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে লুটপাট চললেও সেখানে পুলিশের কোনো টহল ছিল না। একটি জনবহুল ও আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এই সড়কে দিনের বেলায় কীভাবে এতগুলো যানবাহনের যাত্রীরা আক্রান্ত হলেন, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

এই সড়কের নিরাপত্তাহীনতার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ বছরে এই এলাকায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫০টির বেশি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ২৩ জন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসতে পেরেছেন। নিহতদের তালিকায় একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি একাধিক উপজেলা ও দুই জেলার সীমানা স্পর্শ করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাষ্যমতে, অপরাধের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো পরস্পরের ওপর দায়িত্ব চাপানোর প্রবণতা দেখায়। প্রশাসনিক সীমানার মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনিক সীমানা নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার পথে বাধা হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট জেলা ও থানা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিতে হবে।

সড়কটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি অংশে নিয়মিত টহল, তথ্য আদান–প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতির দ্রুত সাড়াদানের জন্য সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বা তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি রয়েছে। তবে শুধু স্থাপনা নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক যানবাহন ও দ্রুত অভিযানের সক্ষমতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। ফাঁড়ি চালুর অপেক্ষার অজুহাতে বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থাকে শিথিল করার সুযোগ নেই; বরং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এখনই টহলের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সড়কের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের আস্তানা রয়েছে। এসব চক্র মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও নানা ধরনের অপরাধে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধীদের অর্থের উৎস, অস্ত্রের জোগানদাতা এবং আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করতে কঠোর গোয়েন্দা তদন্ত ও অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে, নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সর্বশেষ ডাকাতির ঘটনায় কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না দিলেও, পুলিশকে স্বউদ্যোগে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করে অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিত করে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অতীতের হত্যা ও অপহরণ মামলাগুলোর বর্তমান অগ্রগতি পুনরায় পর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যা মানুষের জীবিকা ও শিক্ষার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের পাশাপাশি দিন–রাত নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun