1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

ড্যাপ তুমি কার: বুড়িগঙ্গা রক্ষার বালাই নেই

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানী ঢাকা যেন আজ অপরিকল্পিত নগরায়ণের এক বাস্তব উদাহরণ। নগরজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা যেন জেঁকে বসেছে। এই হযবরল অবস্থা দূর করে নগর পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার জন্য নেওয়া হয়েছিল বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই ড্যাপ আসলে কার জন্য কাজ করছে? বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার আশপাশের নদীগুলোকে রক্ষার অঙ্গীকার থাকলেও কার্যত সেখানে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রাজধানী ঢাকার উন্নয়নে পরিকল্পনার ছাপ খুবই কম। এতে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী তিনটি প্লটকে ভারী শিল্প এলাকার শ্রেণিতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাপ্রবাহ এলাকার ভূমি ব্যবহার-সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনে কিছু শিল্প ও আবাসন ব্যবসায়ী সুবিধা পেতে পারেন। এর তীরে ভারী শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। একইভাবে বন্যাপ্রবাহ এলাকার সুরক্ষা দুর্বল হলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এত আয়োজন করে ড্যাপ প্রণয়নের প্রয়োজনই-বা কী। সংশোধনীর কারণ, প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি। নগর বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার দায়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। কায়েমি স্বার্থের কাছে বুড়িগঙ্গার ভবিষ্যৎ জিম্মি হতে পারে না।

নগরের উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো ড্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর নানা জরিপ ও গণশুনানি শেষে ২০১০ সালের ২২ জুন রাজউক ড্যাপের প্রথম গেজেট প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ঢাকা এবং এর আশপাশের ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ঘিরে ২০২২-২০৩৫ মেয়াদের জন্য নতুন ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়, যা ২০২২ সালের আগস্ট মাসে কার্যকর হয়। তবে এই দীর্ঘ যাত্রার পরও পরিকল্পনাটির যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। রাজধানীকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের জুলাইয়ে প্রথম ড্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ড্যাপের বাস্তবায়ন নিয়ে একটি রুল জারি করেন। ঠিক এক মাস পর, ১৪ অক্টোবর ড্যাপের সংশোধনী গেজেট প্রকাশিত হয়। এই সংশোধনী নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নগর পরিকল্পনা-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একের পর এক সংশোধন ও আইনি জটিলতায় মূল লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।

অথচ নদী ও পরিবেশ রক্ষার জন্য সরকারি উদ্যোগের কোনো অভাব ছিল না। সরকার ২০০৯ সালেই নদীগুলোকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়, আদালতের কঠোর নির্দেশ এবং সরকারি এই বিশেষ ঘোষণার পরও কেন নদীগুলোকে নিরাপদ করা যাচ্ছে না? কেন অবৈধ দখল ও দূষণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বুড়িগঙ্গা? পরিকল্পিত নগরায়ণের দাবি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার পেছনে কারা দায়ী, তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নগরবাসীর সামনে। ড্যাপের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা কেন তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, সেই জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। কিন্তু নগরায়ণের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সুরক্ষার চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থই যদি প্রাধান্য পায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ শহর গড়ার লক্ষ্য কীভাবে পূরণ হবে। ঢাকাবাসী জানেন, বুড়িগঙ্গা দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত। অথচ এই নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজধানীর পরিবেশ, জলপ্রবাহ ও জনজীবন। যে পরিকল্পনার লক্ষ্য ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখা, সেই পরিকল্পনার সংশোধনেই যদি নদী ও জলপ্রবাহের সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে ড্যাপের সুফল পাবে কারা। ড্যাপ সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা থাকতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun