ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে নতুন করে কোনো অবরোধ কিংবা বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিল্পাঞ্চলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নবম দিনের মতো জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল রেখেছে প্রশাসন। ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার ও ৮ প্লাটুন এসআরবিসহ মোট ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ জেলার কোনো আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান বা অবরোধের খবর পাওয়া যায়নি। এর বিপরীতে বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকদের দলবেঁধে নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ফলে কয়েক দিনের অস্থিরতার পর শিল্পাঞ্চলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার ও ৮ প্লাটুন এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন। উল্লেখ্য, বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও একটি কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে। এ ছাড়া আন্দোলন চলাকালে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের সময় মারধরের শিকার হন শ্রমিক তৌফিক। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।