প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে একটি প্রতারণার মামলায় জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট। রবিবার ৬ আগস্ট বিচারপতি মো. খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হতো।
রায় ঘোষণার সময় বিদিশা পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তার আইনজীবী আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির তার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন। অবশেষে চার দিন পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন বিদিশা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার গুলশান থানায় এই প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সাথে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন বাদী। ২০০১ সালের ১০ জুলাই বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে বিদিশা বাদীকে ডেকে নিয়ে তার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। চুক্তিমতে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা করা হয়নি।
বাদীর অভিযোগ, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বিদিশা। শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট কিংবা টাকা কোনোটিই বাদীকে বুঝিয়ে না দেওয়ায় তিনি প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটি করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ২৫ অগাস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লোক মারফত তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরং ‘সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেন।