সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে তাদের জমার মূল অংশ ফেরত পাওয়া শুরু করেছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল, যা রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের নিজ নিজ শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। এরপর শাখাগুলো সেই আবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে এবং সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এই উদ্দেশ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন, যার বিপরীতে মোট চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে শুধুমাত্র ব্যক্তি আমানতকারীদের জমার মূল অংশ ফেরত দেওয়া হচ্ছে এবং মুনাফার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করা হবে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা আপাতত এই স্কিমের আওতায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন না।
আবেদন প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের তাদের হিসাবে মোট জমার পরিমাণ, উত্তোলনের কারণ এবং কত টাকা প্রয়োজন তা উল্লেখ করতে হয়েছে। ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই এই কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগায় তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করা হয়েছে। মূলত গত বছর ঘোষিত আমানত ফেরত দেওয়ার স্কিমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে এই অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকেই এই ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল।
নতুন এই ব্যাংকের মোট মূলধন ৩০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। একীভূত হওয়া এই পাঁচটি ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ৮৬ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমানতের বিপরীতে অর্জিত মুনাফা পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে।