মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর মান্দালয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে বিমানবন্দরটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দেশটির চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মান্দালয় বিমানবন্দরটি মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে এই ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রীসহ সামগ্রিক বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ঠিক কত সময়ের জন্য এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের আকাশসীমায় বা আশপাশে অননুমোদিত ড্রোনের উপস্থিতি উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে উড়োজাহাজ ওঠানামার সময় ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ বা বিধিনিষেধ আরোপের নজির রয়েছে। মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত অস্থিতিশীলতার মধ্যে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ার কারণে অনেক যাত্রীর ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করার পরই ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।