দীর্ঘ প্রায় আট বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ওমানভিত্তিক সালামএয়ার সিলেট-মাস্কাট রুটে সরাসরি যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের আন্তর্জাতিক আকাশপথে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই রুটটি চালু হওয়ায় প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াত অনেক সহজতর হয়েছে।
বর্তমানে সালামএয়ার সপ্তাহে তিন দিন—শনিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার—সিলেট থেকে মাস্কাটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এয়ারবাস এ৩২১ উড়োজাহাজে ওভি-৪২২ ফ্লাইটটি এই রুটে চলাচল করছে। যাত্রী চাহিদার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বিবেচনায় এয়ারলাইন্সটি আগামী অক্টোবর থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে সিলেট থেকে ঢাকা হয়ে বিদেশ ভ্রমণের ভোগান্তি ও সময় সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সালামএয়ারের কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন ১ সেপ্টেম্বর সকালে ১৩৩ জন যাত্রী নিয়ে মাস্কাট থেকে একটি ফ্লাইট সিলেটে অবতরণ করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি মাস্কাটের উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করে। এই মাইলফলক অর্জনের দিনে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কেক কাটা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে নতুন এই যাত্রাকে স্বাগত জানানো হয়।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছিল। তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারা সেই কার্যক্রম স্থগিত করে। দীর্ঘ আট বছর পর সালামএয়ারের হাত ধরে আবারও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত উপস্থিতি ফিরল। এছাড়া এয়ার আরাবিয়া ও ফ্লাইদুবাইয়ের মতো আরও কয়েকটি এয়ারলাইন্স চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক রুটের পরিধি আরও বৃদ্ধি করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে সেটি সিলেট থেকে মাস্কাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সিলেট বিভাগের যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য ঢাকা হয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ওমানপ্রবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সরাসরি বিমান যোগাযোগ সময় ও যাতায়াত খরচ কমানোর পাশাপাশি ভোগান্তিও কমাবে।