নেই শিক্ষাগত যোগ্যতা, করতেন বাস কাউন্টার পরিচালনা। সেখান থেকে বনে যাওয়া কে এই তথাকথিত সাংবাদিক? আবু সিয়াম। নামমাত্র বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড মিডিয়া হাউজের কার্ড নিয়ে করছেন নানা অপকর্ম। এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে ফেসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তির ছবি দিয়ে নামমাত্র সংবাদ প্রচারের পর তা আবার মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ডিলিট করার অভিযোগও রয়েছে।মাহবুব নামের এক রাজনৈতিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, চন্দ্রা পল্লি বিদ্যুৎ ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রমরমা বাণিজ্য—এমন শিরোনামে তার বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে অপপ্রচার চালান আবু সিয়াম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো ভুক্তভোগী তার নাম বলেননি। এরপরও রাজনৈতিক নেতারা কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি ফোনে আবু সিয়ামের কাছে ভিডিওটি ডিলিট করার অনুরোধ জানান।মাহবুবের দাবি, পরবর্তীতে তাকে সরাসরি সাক্ষাতের কথা বলে ভিডিও ডিলিট করতে এক লাখ টাকা দাবি করেন আবু সিয়াম। পরে অনুরোধ করে ৫৫ হাজার টাকা দিলে ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয়।ভুক্তভোগী মাহবুব কোনো আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রস্তুতি চলছে।অর্থের বিনিময়ে ভিডিও ডিলিট করার বিষয়ে তথাকথিত সাংবাদিক আবু সিয়াম বলেন, আমার বৌ বাচ্চা আছে, চলতে হয়, আপনারা টাকা নেন না? হিংসা করেন কেন?তার সহযোগী খোকন বলেন, আমার সামনে টাকা নিয়েছে ৫৫ হাজার, আমি দেখেছি। তিনি আরও বলেন, সিয়ামের মতো বেয়াদব মানুষ জীবনে খুব কমই দেখেছি। শুধু মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে।অভিযোগ রয়েছে, কোন ছবির সঙ্গে কোন ছবি জোড়াতালি দিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। শুধু তাই নয়, রাত দেড়টার সময়ও তাকে ডাকা হয় বলে অভিযোগ করেন খোকন। তিনি বলেন, আসো জিরানি যাবো, এক লাখ টাকা লেনদেন হবে।সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা জানতে চাইলে চড়াও হয়ে সিয়াম বলেন, সাংবাদিকতা করতে আবার সার্টিফিকেট লাগে নাকি, সিভি দিলেই হয়ে যায়।সম্প্রতি তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতে জাল সার্টিফিকেটে ধরা খান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, সাংবাদিকতার নামে এমন কর্মকাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত সাংবাদিকরাও। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় বা অপপ্রচার চালান, তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।