নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি তাঁর কার্যালয়ের এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়া দপ্তরের নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও মিডিয়া উদ্যোক্তা মাজিন সিদাহমেদকে। প্রায় ১৫ বছরের সাংবাদিকতা ও কমিউনিটি মিডিয়া খাতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সিদাহমেদ এখন সিটির বিভিন্ন সংস্থার পেইড মিডিয়া, বিজ্ঞাপন এবং বিপণন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন। এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ভাষাগত বা জাতিগত পরিচয় যেন সিটি সরকারের জরুরি সেবা ও কর্মসূচি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে।
২০২১ সালে লোকাকল ল’ ৮৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই দপ্তরটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মেয়রাল অফিস হিসেবে স্বীকৃত। আইন অনুযায়ী, মেয়রের অধীন প্রতিটি সিটি এজেন্সিকে তাদের বার্ষিক বিজ্ঞাপন বাজেটের অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যয় করতে হয় বিভিন্ন এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়ায়। মেয়র মামদানি মনে করেন, সরকারি সেবা তখনই কার্যকর হয় যখন তা প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছায়। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে কীভাবে তথ্য পৌঁছানো হচ্ছে, সেটি বার্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’ মেয়র আরও উল্লেখ করেন, সিদাহমেদ অভিবাসী নিউইয়র্কারদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষা ও প্ল্যাটফর্মে আস্থাভাজন সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে সফল ভূমিকা পালন করেছেন।
মাজিন সিদাহমেদ অলাভজনক বহুভাষিক সংবাদমাধ্যম ‘ডকুমেন্টেড’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইংরেজি, স্প্যানিশ, চীনা ও হাইতিয়ান ক্রেওল ভাষায় অভিবাসীদের কেন্দ্র করে সাংবাদিকতা করে আসছে। সিদাহমেদ নিজেই জানান, অভিবাসী বাসিন্দাদের সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী তথ্য ও সেবার সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই তিনি এই প্ল্যাটফর্ম গড়েছিলেন। এখন তিনি সিটির বিভিন্ন দপ্তরের জনসেবামূলক তথ্য ও বিজ্ঞাপনগুলো তৃণমূল পর্যায়ের এসব জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে চান।
পেশাদার জীবনে অসংখ্য অর্জনে ভূষিত হয়েছেন সিদাহমেদ। ২০২৪ সালে তিনি রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস থেকে পেয়েছেন ‘লোকাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড’। এর আগে অভিবাসন আদালত নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের জন্য তিনি এডওয়ার্ড আর. মারো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি এডওয়ার্ড আর. মারো, ডেডলাইন ক্লাব, অনলাইন জার্নালিজম এবং লায়ন পুরস্কারসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি ইমিগ্রেন্ট নিউজ কোয়ালিশন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং নিউজ ফিউচার্স গার্ডেনিং ক্লাব-এর কো-চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সিদাহমেদ তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে লেবাননের দ্য ডেইলি স্টারে সিরীয় শরণার্থী সংকট, অস্ত্র সরবরাহ এবং গৃহকর্মীদের অবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে নিউইয়র্কে দ্য গার্ডিয়ান ইউএস এবং পলিটিকো নিউ ইয়র্ক-এর সাংবাদিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনসহ নজরদারি, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা ও ঘৃণাজনিত অপরাধের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর তাঁর অনুসন্ধানী কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নতুন এই সরকারি দায়িত্বে তিনি কেবল তথ্যপ্রবাহই জোরদার করবেন না, বরং নিউইয়র্কের এথনিক মিডিয়া হাউসগুলোর সঙ্গে সিটি প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককেও আরও সুসংহত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডকুমেন্টেড কমিউনিটির প্রয়োজন ও মতামতকে সাংবাদিকতার কেন্দ্রে রেখে কাজ করে আসছে।