সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং তথ্য সংগ্রহের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। গত ২২ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা শাখা থেকে জারি করা এই নির্দেশনায় কার্যক্রমের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেশের ২০৮টি উপজেলার ২০৮টি ওয়ার্ডে ৫ হাজার ট্যাব ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সদর দপ্তরের ২০ জন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক দেশের ৩০ থেকে ৪০টি নির্ধারিত ভেন্যুতে প্রায় ১০০ জন মাস্টার ট্রেইনারকে দুই দিনের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। এরপর এই মাস্টার ট্রেইনাররা স্ব-স্ব উপজেলায় গিয়ে সুপারভাইজারদের জন্য দুই দিন এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের জন্য দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করবেন। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে নামার আগে প্রত্যেক সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীকে অনলাইনে মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। যদি কোনো উপজেলায় সমাজসেবা কর্মকর্তার সংকট থাকে, তবে শিক্ষা, কৃষি বা আইসিটি কর্মকর্তাসহ অন্য বিভাগের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে জেলা উপপরিচালকরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড চূড়ান্ত করবেন। সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রেও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডকে পাইলটিংয়ের জন্য বাছাই করতে হবে।
অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে ৬৬ হাজার ৯১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৮১৮ জন সুপারভাইজারের প্রোফাইল আইডি জরুরি ভিত্তিতে যাচাই ও অনুমোদনের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব আইডি থেকে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনো প্রার্থী কাজ করতে অনিচ্ছুক হলে তার কাছ থেকে লিখিত আবেদন গ্রহণ করতে হবে।
এসব ক্ষেত্রে অনুপস্থিত বা কাজ করতে অনীহা প্রকাশকারী ব্যক্তিদের উপজেলা নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশনের মাধ্যমে বাদ দিয়ে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন কর্মী অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো নতুন কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী বর্তমান কমিটিই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে। পার্বত্য জেলাগুলোর ক্ষেত্রে গেজেট নির্ধারিত সমন্বয় কমিটিই এই দায়িত্ব পালন করবে বলে বাসসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্যাব, ড্রেস, সিম সংযোগ ও অ্যাপ ইনস্টলেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে তাদের এক দিনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভাগীয় পরিচালকদের ব্যবস্থাপনায় এসব প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। চাকরির আরও তথ্য: নির্দেশিকায় বর্ণিত সুপারিশ নিয়োগ কমিটিও বহাল থাকবে।