দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যম। ২৯ বছর বয়সী এই পাইলটের নাম হামাম আল-হামানি। তিনি ওমানের নাগরিক হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় হয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে তার শিক্ষা, কর্মজীবন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
হামাম আল-হামানির লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই চাকরি ছাড়ার পর একই বছরের জুনে মরক্কোর রয়্যাল এয়ার মারোকে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জুনে সেখান থেকেও ইস্তফা দেন। তবে তার লিংকডইন প্রোফাইলে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করার কোনো বিবরণ ছিল না। একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই অ্যাকাউন্টটি হামামেরই ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ডিলিট করে দেওয়া হয়। এই অ্যাকাউন্টটি কেন মুছে ফেলা হলো, সে বিষয়ে জানতে লিংকডইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষাজীবনে হামাম ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে তিনি সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং ২০২৩ সালে ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তার এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তবে এর আগে তার ইনস্টাগ্রামে ককপিট থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও পাওয়া গিয়েছিল, যাতে একটি ইসরায়েলি বিমান দেখানো হয়।
সেই ভিডিওর শেষ অংশে আল-কায়েদার সাবেক শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং জর্ডানের নাগরিক হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওইয়ের ছবি যুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, হুমাম খলিল ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি ঘাঁটিতে হামলার সাথে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া হামামের অন্য একটি সামাজিকমাধ্যম পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের ছবি দেখা যায়, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ইসলামি কবিতা আবৃত্তি হচ্ছিল। তবে বিমানের ভেতর ঠিক কী ঘটেছিল এবং এই হামলার পেছনে তার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, সে সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কোনো তথ্য মেলেনি।