ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে কাতার। দোহায় এই বৈশ্বিক ক্রীড়াযজ্ঞ নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশটি বিশ্ব ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের পূর্ব অভিজ্ঞতা, অত্যাধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো এবং সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোকে মূলধন করে এই বিড বা দরপ্রস্তাব তৈরি করেছে কাতার। কাতারের এই উদ্যোগ কেবল একটি একক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের চেয়ে অনেক বড়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।
কাতারের এই অলিম্পিক যাত্রার পরবর্তী বড় ধাপ হিসেবে সামনে রয়েছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমস। এই টুর্নামেন্ট আয়োজন দেশটির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং বিশাল পরিসরের প্রতিযোগিতা পরিচালনার প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। এশিয়ান গেমসের এই আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিল এবং বিশ্ব ক্রীড়া মহলের কাতারের প্রতি আস্থার বড় প্রমাণ।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) আনুষ্ঠানিক তালিকায় কাতারের নাম যুক্ত হওয়ায় এই বিড বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং বিড কমিটির চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সাথে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩৬ সালের গেমস আয়োজনে আগ্রহী দেশগুলোর তালিকায় কাতারের অন্তর্ভুক্তি এই বিডের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
গেমস আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশই বর্তমানে বিদ্যমান বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। নতুন কোনো অবকাঠামো শূন্য থেকে গড়ে তোলার চেয়ে বিদ্যমান বিশ্বমানের স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জলক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার সঠিক ব্যবহারের ওপরই কাতার জোর দিচ্ছে। এছাড়া আবাসন ও লজিস্টিক সেবার সমন্বয়ে একটি মজবুত ইকোসিস্টেম দেশটিতে আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে।
কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কাতারের এই উদ্যোগে আরব লীগ কাউন্সিলের মন্ত্রিপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে, যা দেশটির দাবিকে আরও জোরালো করেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩৬ অলিম্পিকের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে সক্ষমতার নতুন ইতিহাস রচনার পথে কাতার।