1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

সীতাকুণ্ডে তরুণীর মৃত্যু: যৌতুকের অভিযোগ, স্বামীসহ আটক তিন

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দনা রানী শীল (২২) নামের এক তরুণীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনের জমি থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত চন্দনা উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী শিমুল শীলসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে সীতাকুণ্ডে থানা প্রাঙ্গণে দেখা যায় এই দৃশ্য।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শিমুল যৌতুকের দাবিতে চন্দনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ঘটনার আগের দিনও নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু পরদিন স্বামী শিমুল তাঁকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এরপরই চন্দনার মৃত্যুর সংবাদ পান স্বজনরা। থানায় মেয়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বাবা তেজেন্দ্র দাশ ও মা আলো বালা দাশ কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবার আহাজারিতে থানা প্রাঙ্গণের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি বিলাপ করছিলেন, ‘আমি গরিব হলেও সন্তানকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছিলাম। বুকের ভেতর আগলে রাখা মেয়েকে কীভাবে কষ্ট দিয়ে মারল তারা।’ পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে শিমুলের সঙ্গে চন্দনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বারবার অ্যাম্বুলেন্সের জানালা দিয়ে মেয়ের লাশের দিকে তাকাচ্ছিলেন, আবার স্বজনদের দিকে ফিরে আহাজারি করছিলেন।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, অন্য কোনো স্থানে হত্যার পর লাশটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিদ্যালয় এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার রাজবংশী জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী শিমুলসহ তিনজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ যৌতুক না অন্য কোনো বিবাদ, তা তদন্ত শেষ হলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

এর আগে সকালে লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবি দেখে চন্দনার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করেন। পরে তাঁরা থানায় গিয়ে মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun