নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অত্যন্ত পরিচিত এবং কমিউনিটির পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত ৩ অক্টোবর শনিবার থেকে তার সঙ্গে স্বজন ও পরিচিতজনদের সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। টানা পাঁচ দিন তাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় প্রহর গুনছিলেন স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কমিউনিটির মানুষের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। ঠিকানা রিপোর্ট: পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন মরদেহের সন্ধান মিলেছে ব্রুকলিনে মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্যাকসন হাইটসের কাছে একটি বাস স্টপেজে অপেক্ষা করার সময় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। সে সময় মোহাম্মদ উদ্দীন নামে এক বাংলাদেশি বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিক ৯১১-এ ফোন করে সহায়তা প্রার্থনা করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে নিজ জেলা মাগুরায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
দীর্ঘ পাঁচ দিন পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাস স্টপেজে অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়। এরপর তার মরদেহ ব্রুকলিনের ৫৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত ফরেনসিক প্যাথলজি অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস সেন্টারে রাখা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান তার মরদেহ শনাক্ত করেন। একই দিন বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক সহযোগিতায় তার মরদেহ দেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও প্রথম কয়েক দিন তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের পর জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় কাজী আজিজুল হক খোকনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে তাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানান। প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাগুরা জেলা সোসাইটিসহ কমিউনিটির নানা উদ্যোগে তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। এছাড়া জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ স্ট্রিটখ্যাত ৭৩ স্ট্রিটের অবকাশ স্টোরে তিনি কাজ করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াত, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটির বহু মানুষের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। নিয়মিত কর্মস্থলে না আসা এবং ফোনে যোগাযোগ করেও সাড়া না পাওয়ায় তার খোঁজ শুরু করেন বন্ধু, সহকর্মী ও কমিউনিটির নেতারা। কুইন্সের কিউ গার্ডেনসের বাসায় তিনি একাই বসবাস করতেন।