নতুন স্মার্টফোন কিনে চালু করার আগেই তাতে লুকানো থাকতে পারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটডিফেন্ডারের গবেষকেরা বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের হাজার হাজার কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমন অস্বস্তিকর তথ্যের সত্যতা পেয়েছেন। এসব ফোনে সিস্টেম সফটওয়্যারের ভেতর থেকেই ক্ষতিকর কোড ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নেভাতে ২০ ইউনিট, পানি সংকটের কথা জানাল ফায়ার সার্ভিস। ফ্লাইট ধরার আশায় বিমানবন্দরে ঘুরছেন সৌদিগামী কর্মীরা।
গবেষকেরা এই ম্যালওয়্যার ছড়ানোর প্রক্রিয়াকে ‘মিডনাইট মিমোসা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গত দুই বছরে মেক্সিকো, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে হাজার হাজার ফোনে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সাধারণত আক্রান্ত ফোনগুলো ব্যবহারকারীর অগোচরে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘বটনেট’ বা ডিভাইসের একটি বিশাল দলের অংশ হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটের তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২৭ সালে বড় পর্দায় মুক্তির তালিকায় যেসব সিনেমা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফোনে আগে থেকে থাকা ম্যালওয়্যার অনেক সময় গুগল প্লে স্টোর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, যাতে গুগলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিষয়টি শনাক্ত করতে না পারে। এর বাইরে ১৩টি ক্ষতিকর অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এছাড়া আবহাওয়ার আপডেট, ফাইল ম্যানেজমেন্ট, আইকন কাস্টমাইজেশন ও অডিও এডিটিং টুলের মতো ছদ্মবেশে প্রায় ৩২ ধরনের অ্যাপ এই ম্যালওয়্যার গোপনে ইনস্টল করতে সক্ষম। এসব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে আবহাওয়ার খবর দেখার অ্যাপ, ফাইল সাজানোর অ্যাপ, আইকন বদলানোর টুল ও অডিও সম্পাদনার অ্যাপ।
সাধারণ অ্যাপ সহজেই ফোন থেকে মুছে ফেলা গেলেও এই ম্যালওয়্যারগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের গভীরে থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে তা সরানো প্রায় অসম্ভব। এটি দূর করার জন্য ফোনের সিস্টেম সফটওয়্যারে বিশেষ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন। এই ম্যালওয়্যার ঠিক কোথা থেকে বা কোন পর্যায়ে ফোনে যুক্ত হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কিছু আক্রান্ত ডিভাইসে চীনা প্রতিষ্ঠান শেনজেন জেডিয়েলের ডিজিটাল সনদ পাওয়া গেলেও প্রতিষ্ঠানটি এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত কি না, তা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। অ্যাপল, স্যামসাং ও অনরের নামী ব্র্যান্ডের আদলে তৈরি নকল ফোনের পাশাপাশি ডুগি ও কিউবটের মতো কিছু ব্র্যান্ডের মডেলও এই ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিয়মিত ফোনের নিরাপত্তা অ্যাপ আপডেট রাখা এবং অবিশ্বস্ত অ্যাপ এড়িয়ে চলা জরুরি। মনে রাখা প্রয়োজন, ফ্যাক্টরি রিসেট দিলেও অনেক সময় এই ম্যালওয়্যার থেকে মুক্তি মেলে না। তাই সন্দেহজনক ফোনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ফোন কেনার সময় অপরিচিত বিক্রেতা বা অস্বাভাবিক কম দামের ফোনের প্রলোভনে না পড়ে ব্র্যান্ড ও অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে ডিভাইস কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ‘ব্যাডবক্স ২.০’ নামে আরেকটি বটনেটের তথ্য সামনে এসেছিল, যেখানে বিশ্বজুড়ে ১০ লাখের বেশি ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছিল। সে সময়ও এ ধরনের সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোন তৈরির সময়, নাকি বাজারে পৌঁছানোর পথে এগুলো আক্রান্ত হয়েছে, সেটিও নিশ্চিত নয়। অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়া ফোন, অপরিচিত বিক্রেতা কিংবা প্রস্তুতকারকের পরিচয় স্পষ্ট নয়, এমন পণ্য কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে যেভাবে জিপিএস ট্র্যাকার বানাবেন।