তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে টানা ভারী বর্ষণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। বেশ কিছু এলাকায় সড়ক ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং আটকা পড়েছে যানবাহন। এই দুর্যোগে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে পার্কিংয়ের পথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কিশোরটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। তুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে নিচতলা বা বেসমেন্টে থাকা ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের রাতের বেলা ভবনের ওপরের তলায় আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্যাপ্রবণ এলাকা, আন্ডারপাস এবং খাল ও নদীর তীরবর্তী এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে এবং প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মকর্তা ও ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার রাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বেসমেন্ট ও নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতের বেলায় ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি সহায়তা চেয়ে কল এসেছে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যা ও ১৫টি ভূমিধসের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এতে প্রায় ৮০০টি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ৭৬টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসেনইউর্টসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়া সুলতানগাজি এলাকায় একটি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়লেও কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।
বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ইস্তাম্বুলের অনেক আন্ডারপাস ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সর্বোচ্চ ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরি আসলান জানান, শহরের কিছু অংশে মাত্র ১২ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ইস্তাম্বুলের বিমান চলাচল ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।