দেশের বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে চায়না এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইংয়ের নেতৃত্বে আসা একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে মন্ত্রী পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ প্রকল্প, স্মার্ট গ্রিড ও উন্নত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির (ডিপিডিসি) বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ দেশের জাতীয় উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি। তাই বিদ্যুৎ খাতের এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চীনা ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বর্তমান সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের দিকে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি এ সময় জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট গ্রিড নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এছাড়া ডিপিডিসির সঞ্চালন লাইন শক্তিশালী করার মাধ্যমে গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সবুজ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি শুল্ক ও কর কমানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানান মন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশে চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো সরাসরি পরিদর্শনের জন্য ব্যাংক প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইংকে আমন্ত্রণ জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।
উক্ত বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনের আর্থিক সহায়তা আরও গতিশীল হবে।