বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় সংকোচন এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (নোবিপ্রবি) পূর্ণাঙ্গ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তার আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক ‘গ্রিন ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এই পরিকল্পনার কথা জানান।
উপাচার্য জানান, প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত বিশাল এই ক্যাম্পাসে প্রতি মাসে বিদ্যুতের পেছনে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। এই ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর লক্ষ্যেই সৌরশক্তির ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এআই ল্যাবে মাত্র ১৮ লাখ টাকা খরচে ৯০০ বর্গফুটের একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
এই ছোট পরিসরের সৌরব্যবস্থা থেকে বছরে প্রায় ২৩ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ মিলবে, যেখানে দৈনিক গড় উৎপাদন প্রায় ৬৩ ইউনিট। হিসাব অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন টাকা, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহকৃত প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় প্রায় ১০ টাকা। সৌরশক্তির এমন সাশ্রয়ী ব্যবহার সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পুরো ক্যাম্পাস এই ব্যবস্থার আওতায় চলে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ কমে যাবে এবং এটি একটি টেকসই ক্যাম্পাস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই অর্থনীতির রূপরেখায় নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। বণিক বার্তার এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এতে দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।