উড়োজাহাজ ইজারা সংক্রান্ত বকেয়া প্রায় ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৮২৭ ডলার পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠান হাবিব গ্রুপের সহযোগী সংস্থা ‘এইচজি এভিয়েশন লিমিটেড’ অবসায়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের একক কোম্পানি বেঞ্চ গত ১৯ আগস্ট এই রায় ঘোষণা করেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত ১৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী পাওনা বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি চুক্তি মোতাবেক প্রযোজ্য সুদ ও অন্যান্য পাওনা আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালত পাওনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ারকে অবসায়ক বা লিকুইডেটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে অবসায়ন কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং দুই মাসের মধ্যে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উইলমিংটন ট্রাস্ট কোম্পানির দায়ের করা এই মামলায় কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আদালতের এই নির্দেশনা এল।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর উইলমিংটন ট্রাস্ট কোম্পানি একটি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৩৭-৭০০ উড়োজাহাজ ইজারা হিসেবে এইচজি এভিয়েশনকে প্রদান করেছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে ২০২০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তখন এইচজি এভিয়েশন দেনার দায় স্বীকার করে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা রক্ষা করেনি। এরপরই উইলমিংটন ট্রাস্ট হাইকোর্টে অবসায়নের আবেদন করে।
আইনজীবী মো. মুক্তাদির রহমানের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালে হাবিব গ্রুপের ১১টি প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন চেয়ে আদালতে আবেদন জমা পড়েছিল। আপাতত একটির বিষয়ে নির্দেশ এলেও পাওনা আদায় সম্ভব না হলে বাকি ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পথ খোলা রয়েছে। হাবিব গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, রিজেন্ট স্পিনিং মিলস, ডায়মন্ড সিমেন্ট, হাবিব স্টিলস ও রিজেন্ট পাওয়ারসহ আরও কয়েকটি সংস্থা। সরকারি সংস্থা, ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট পাওনা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে যাত্রা শুরু করা হাবিব গ্রুপ একসময় তৈরি পোশাক, ইস্পাত, কাগজ, বস্ত্র ও বিমান পরিবহনের মতো বিভিন্ন খাতে সরব থাকলেও আর্থিক সংকট ও ঋণখেলাপির কারণে অধিকাংশ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সাল থেকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠানের সম্পদ থেকে পাওনাদারদের অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো, যা এখন সংশ্লিষ্ট মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।