ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি মাদ্রাসার মাঠ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কৌশলে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের একজনকে আটক করা হয়েছে।পরিবারের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া সিরাজুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আখি আক্তার (ছদ্মনাম) (১৪) বাড়িউড়া উত্তরপাড়ার আব্দুল কাদের ও জামেলা বেগমের মেয়ে।অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার মাঠ থেকে কৌশলে কিশোরীকে রাস্তার পাশে নিয়ে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তোলা হয়। পরে বাড়িউড়া ও ইসলামাবাদ সড়কের মধ্যবর্তী বিলের পাশে নিয়ে ছয়জন মিলে তাঁকে পালাক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে কিশোরী অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পানি দিয়ে তাঁকে কিছুটা সুস্থ করে। পরে অভিযুক্ত আল-আমিন তাঁর অটোরিকশায় করে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কিশোরীকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় কাউকে কিছু জানালে কিশোরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া এবং বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে তাঁরা হলেন জাকির মিয়া (৩০), নাঈম হোসেন (২২), সোহাগ মিয়া (২২), মোখলেছ (৩৫), বাহার মিয়া (২২) এবং আল-আমিন ওরফে জিকিরি (৪০)। তাঁদের সবার বাড়ি সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার ঘটনাস্থল-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানান, দ্রুত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।