1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার রিসোর্টে নিখোঁজ একই পরিবারের চার সদস্য

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে একই পরিবারের চারজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা আফসানা মতিন তানজি (৩৬), তাঁর স্বামী নাহিদুর রহমান (৪১) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। স্বজনেরা তাঁদের মৃত্যুর আশঙ্কা করলেও গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ছোট বোন, বোনজামাই আর দুই ভাগনির কথা বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিল তাঁর কণ্ঠ। সবার পরিচয় নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।’।

নিখোঁজদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো

  1. আফসানা মতিন তানজি ও তাঁর স্বামী নাহিদুর রহমান।
  2. তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া।
  3. এবং সুনাইনা ইহানা টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। স্বজনদের দেওয়া তথ্যে প্রাথমিকভাবে আটজনের পরিচয় অনুমান করা গেলেও তাঁদের তালিকায় এই চারজনের নাম নেই। কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির আজ রোববার জানান, ডিএনএ পরীক্ষার আগে কারো পরিচয়ই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব নাম দাবি করা হচ্ছে, সেসব যাচাইয়ে সময় প্রয়োজন।

পরিবারের সদস্য স্কুলশিক্ষক ফারজানা মতিন জানান, তিনি শুক্রবার দুপুরের দিকে ফেসবুকে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে শঙ্কার সম্মুখীন হন। ওদের দিকে তাকালে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা করবে শুধু,’ কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন স্কুলশিক্ষক ফারজানা মতিন।

সকাল সাতটা থেকে নাহিদ ও আফসানার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ও অফিসের কাজে গেলেও ফোন বন্ধ রাখার ছেলে নয়।

পরে নাহিদুরের বন্ধুদের মাধ্যমে রিসোর্টের নথিপত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তাঁরা ওই রিসোর্টেই অবস্থান করছিলেন।

ফারজানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বোন ও ভাগনিদের হাসিমুখ আর ভিডিও কলের স্মৃতি এখন শুধুই অনিশ্চয়তা। ওরা সবাই ৯ জন বেড়াতে গিয়েছিল, অথচ আজ তাদের কোনো খোঁজ নেই। তখন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল, ওরা কোনো বিপদে পড়েছে।’। ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কর্মরত নাহিদুর রহমান স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকতেন। গত শুক্রবার কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর আফসানা তাঁর মাকে রিসোর্টটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কাঠামোর বর্ণনা দিয়েছিলেন। কাঠের দোতলা এই রিসোর্টের বারান্দা থেকে পাহাড় ও সমুদ্র দেখা যাওয়ার মুগ্ধকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দঘন ভ্রমণ এখন এক অপূরণীয় শোকে পরিণত হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা কক্সবাজারের দিকে রওনা হয়েছেন। খবরের সঙ্গে ছোট বোনের পরিবারের বেড়াতে যাওয়ার বিবরণ মিলে যাওয়ায় তাঁর মনে সন্দেহ জাগে।

এর আগে একই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারসহ অন্য স্বজনদের হারানোর খবরও পাওয়া গেছে। রিসোর্টে পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এক পরিবারেরই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নূর আলম নামক এক ব্যক্তি স্ত্রী-সন্তানসহ অনেককে হারিয়েছেন। অন্যদিকে, আশিকুল নামের একজন দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun