গত ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার জেরে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সম্প্রতি বিমানবন্দরটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হলেও বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, গত শনিবার থেকে ১৬ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত সৌদি আরবগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১০৭টি ফ্লাইটের সূচি বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে মোট ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শুক্রবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির স্বাভাবিক সূচির ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ অবতরণ করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সূচিতে থাকা ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ ফ্লাইট বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের রিয়াদগামী ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। সরাসরি ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার তালিকায় রয়েছে বিমান বাংলাদেশের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট সংকটের কবলে পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যাত্রীদের জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করায় যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রতি ফ্লাইটে ১৪৮ জন বেড়েছে। এছাড়া জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। ঢাকার বলাকা কার্যালয়ে টিকিট পরিবর্তনের জন্য প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প রুট ব্যবহারের ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। দ্রুত ফ্লাইট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় প্রবাসীরা। সংস্থাটি জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। ছুটি শেষ হওয়া এবং কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে প্রবাসীরা দ্রুত স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন।