1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনেও মান্তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি সহায়তা অনুশীলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বায়ার্ন কোচ কোম্পানি জর্ডানে গির্জায় গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় শোকের ছায়া থমথমে সাজেক: পর্যটন বন্ধে কোটি টাকার লোকসানের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা শাহজালাল বিমানবন্দরে অনিয়মের পাহাড়, ঝুঁকি বাড়ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দেশে হামের প্রকোপ: উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু কক্সবাজারে সুগন্ধা পয়েন্টের হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, নিরাপদ পর্যটকরা দুর্দিনের ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত সাভার থানা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাহিদ |: আ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গানের আসর বাতিলের অভিযোগ

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনেও মান্তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি সহায়তা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য চরম খাদ্য সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলাজুড়ে নদীতীরে নৌকায় বসবাসকারী এই জেলে সম্প্রদায়ের প্রধান উপজীবিকা মাছ ধরা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তাদের জীবন চলে প্রায় অনাহারে-অর্ধাহারে। তেলের দাম বাড়ার পর কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপেক্ষা। প্রতিবছর ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই তাদের কপালে আর খাবার জোটে না। এই সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে নিষেধাজ্ঞা মানেই না খেয়ে থাকা। ঢাকায় পুরোনো রমনা থানার কাছে ককটেল বিস্ফোরণ।

বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই চার জেলায় মোট এক হাজার ৯০৫ জন মান্তা জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের সীমাবদ্ধতাসহ নানা কারণে একটি বড় অংশকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। যদিও মৎস্য কার্যালয়ের দাবি, কার্ড না থাকলেও নিবন্ধিত জেলেদের সরকারি সহায়তা বা চাল পাওয়ার কথা। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয় পর্যায়ে জরিপে দেখা গেছে, মান্তা জেলেদের মধ্যে কার্ড পাওয়ার হার প্রকৃত সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঝুঁকিতে সবজি রপ্তানি। শনিবার ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়।

বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাটের চিত্রটি ভয়াবহ।

সেখানে ১৭৮টি নৌকায় প্রায় এক হাজার মান্তা মানুষের বসবাস।

এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাত্র ৩৬ জন জেলে কার্ড পেয়েছেন। কার্ড পাওয়াদের মধ্যেও মাত্র নয়জন বরাদ্দকৃত চাল হাতে পেয়েছেন। বাকিদের কেবল টোকেন দেওয়া হলেও চাল মেলেনি। লাহারহাটের মান্তা সর্দার জসিম সর্দার জানান, তাদের প্রায় ১২৫ জনের এনআইডি থাকলেও কার্ড পাওয়ার সংখ্যা খুবই কম। তিনি বলেন, মাছ ধরা ছাড়া বিকল্প কোনো পেশা তাদের জানা নেই, কিন্তু কার্ড না থাকায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে চালও পান না তারা। এদের অনেককে চাল নেওয়ার জন্য টোকেন দেওয়া হলেও এখনো পাননি।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে গিয়ে জেলে ও জরিমানার শিকার হতে হচ্ছে অনেকের। জসিম সর্দার জানান, সম্প্রতি মেহেন্দিগঞ্জে মৎস্য বিভাগ দুজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে এবং তাদের জাল জব্দ করেছে। চরবাড়িয়া এলাকার রানা সর্দার জানান, তাদের ৪৪টি পরিবারের মধ্যে মাত্র নয়জন কার্ড পেয়েছেন। সেখানে শতাধিক শিশু রয়েছে যারা এই নিষেধাজ্ঞা বোঝে না। অভিভাবক রাবেয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নামতে হয়, আর বিনিময়ে জুটছে জেল-জরিমানা বা নৌকা আটকের মতো ঘটনা।

ইয়ুথনেটের সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান জানান, বরিশাল জেলার ২৯৫টি মান্তা পরিবারের মধ্যে মাত্র ৮৭ জন কার্ড পেয়েছেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিতের তথ্যমতে, পুরো বিভাগের প্রায় ২ হাজার মান্তা পরিবারের মধ্যে কার্ড পেয়েছেন ৫০০ জনেরও কম। তার মতে, জীবিকার নিশ্চয়তা না থাকলে জেলেরা আইন অমান্য করতে বাধ্য হন, তাই মান্তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথনেটের সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান বলেন, বরিশাল জেলায় চারটি জায়গায় মান্তা সম্প্রদায়ের ২৯৫টি পরিবার বসবাস করে।

তবে বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জামাল হোসেনের দাবি, উপজেলায় প্রায় ৫০০-৬০০ জন মান্তা জেলের মধ্যে চলতি বছর ১৪২ জনসহ মোট ২০০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এরা আগামী বছর কার্ড পাবেন এবং চলতি বছর তারা চাল পাওয়ার যোগ্য। অন্যদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। সেখানে ২৩০টি মান্তা পরিবারের মধ্যে ১৯০টিকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এফ এম নাজমুল সালেহ জানান, এখনো ৪০টি পরিবার কার্ড না পেলেও সবাইকে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সবাইকে জেলে কার্ডের আওতায় আনা যায়নি।

বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের তিন লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ২৫ কেজি হারে মোট আট হাজার ৯৬২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বরিশাল জেলাতেই ৭৯ হাজার ৮৯০ জন জেলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ৯৯৭ মেট্রিকটন চাল। সরকারি বরাদ্দের এই বিপুল পরিমাণ চাল থাকলেও প্রকৃত মান্তা জেলেরা তার সুফল থেকে কেন বঞ্চিত হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ৩ গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে বিদায় ফর্টিসের। স্কুলের ডিজিটাল রূপান্তরে ২১৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun