1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ঈদের দিনে মেয়ে-জামাই আর নাতির মরদেহ দেখে অঝোরে কাঁদলেন বৃদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

‘আমার মাইয়া-জামাইয়ের সংসারডা শেষ অইয়া গেল। ওগো বড় পোলাডা এতিম অইয়া গেল। আমি মাইয়া-জামাই-নাতির এই মরণডা সহ্য করতি পারতাছি না।’— ঈদের দিনে মেয়ে-জামাই আর নাতির মরদেহ দেখে এভাবেই বিলাপ ধরে কাঁদাছিলেন প্রায় ষাটোর্ধ্ব বয়সী মো. খালেক।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জের বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। এরপর খবর পেয়ে ছেলে মেহেদি হাসানকে হাসপাতালে নিয়ে ছুটে আসেন মো. খালেক। সেখানে পরিবারের তিনজনের মরদেহ দেখে বিলাপ ধরে কাঁদতে শুরু করে তিনি।

এই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোনিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে মো. সোহাগ (৩৬), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩০), ছেলে মো. আরমান (৬), মোটরসাইকেল চালক বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের শাওন ঢালী (২২) ও মোটরসাইকেল আরোহী একই গ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সোয়েব শেখ (১৬)।

এদের মধ্যে খাদিজা খাতুন বিলাপ ধরে কাঁদতে থাকা মালেকের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, খাদিজা স্বামী ও ছেলে আরমানকে নিয়ে ঢাকায় থাকত। স্বামী পোস্তগোলায় কাঠের আড়তে ট্রাকে কাঠ লোড-আনলোড শ্রমিকের কাজ করতেন। আর খাদিজা ও আরমান দম্পতির বড় ছেলে রহমতুল্লাহ গোপালগঞ্জেই নানার বাড়িতে থাকতো। ঘটনার দিনে ঈদ উপলক্ষে গ্রামে (বাবার বাড়িতে) বেড়াতে আসার কথা ছিল খাদিজার। সর্বশেষ বেলা ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয় খাদিজার। তখন তাদের গাড়ি ভাঙ্গা পৌঁছেছিল বলে জানায়। এরপর কিছুসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সর্বশেষ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে মেয়ে-জামাই ও নাতির লাশ দেখতে পায় মালেক।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মো. খালেক বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি কলারদোনিয়া গ্রামে। একই গ্রামের সোহাগের সঙ্গে মেয়ে খাদিজাকে ১৬ বছর আগে বিয়ে দিই। তারা আজকে আমার বাড়িতে আসার কথা ছিল। পরে হাসপাতালে এসে তাদের লাশ পেয়েছি। আমার মেয়ে-জামাইয়ের সংসার শেষ হয়ে গেল। তাদের বড় ছেলে রহমতুল্লাহ এতিম হয়ে গেল। আমি মেয়ে-জামাই-নাতির এ মৃত্যু সহ্য করতে পারছি না।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রামে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি রাস্তার ওপর উল্টে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলের ২ আরোহীসহ ৪ জন নিহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে ৬ বছরের শিশু আরমানের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও ২৫ বাসযাত্রী।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, ১১ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun