1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মক্কা প্যাক্টে যোগদানের প্রস্তাব পেলে ইতিবাচক বিবেচনা করবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ৬৪ জেলায় তদারকির দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইলের জমিতে সমরাস্ত্র কারখানা: পাওনা নিয়ে শ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ জুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে বার্সার সঙ্গে কোনো আলোচনাই করবে না অ্যাতলেতিকো ময়মনসিংহে কাস্টমস কর্মী নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনের স্বীকারোক্তি পুলিশ বাহিনীতে বড় নিয়োগ: ১০ হাজার কনস্টেবলসহ মোট ১৪ হাজার ৪০০ জনবল নেওয়া হবে দক্ষিণ লেবাননে ফের ইসরায়েলি বিমান হামলা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলিতে নতুন কড়াকড়ি ও শর্তাবলি জারি নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনে পরিবার হারালেন ব্যবসায়ী

করোনায় থেমেছিল পড়াশোনা, শামীম এখন পেশাদার কসাই

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

ঈদের দিন বেলা আড়াইটা। মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের সি-ব্লকের ৬ নম্বর সড়কের একটি ভবনের সামনে তখনো কোরবানির ব্যস্ততা। মাঝারি আকারের একটি গরুর মাংস কাটায় ব্যস্ত তিনজন। তাঁদের নেতৃত্বে ২৩ বছর বয়সী শামীম মিয়া। কোরবানি দেওয়া গরুর সামনে হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে শামীম। মুখে ক্লান্তির ছাপ—তবু থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারণ, এটি ছিল তাঁর দিনের পঞ্চম গরু কাটার কাজ।

করোনা মহামারির আগে শামীম ছিলেন স্কুলের ছাত্র। ২০২০ সালে করোনার প্রকোপের সময় পরিবারের আর্থিক সংকট বাড়তে থাকলে দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থাতেই বন্ধ হয়ে যায় তাঁর পড়াশোনা। পরে অটো পাসে মাধ্যমিক পাস করলেও আর স্কুলে ফেরা হয়নি। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলতে গিয়ে এখনো নবম শ্রেণির কথাই বলেন শামীম।

ভাসানটেক বস্তিতে পরিবার নিয়ে থাকেন শামীম। পড়াশোনা ছাড়ার পর জীবিকার তাগিদে ভাসানটেক বাজারের একটি গরুর মাংসের দোকানে সহকারীর কাজ শুরু করেন। ওই বাজারের ‘আল্লাহর দান গোশত বিতান’-এর প্রধান কসাই তাঁর মামা আবদুল কুদ্দুস। তাঁর কাছেই মূলত কসাইয়ের কাজ শেখা। কয়েক বছরের মধ্যেই এখন নিজেই চুক্তি নিয়ে গরু কাটার কাজ করেন শামীম।

ঈদের দিন সকাল থেকে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। মিরপুরে এই গরু কাটার আগে ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় চারটি গরু ও তিনটি খাসি কাটার কাজ শেষ করেছেন। এর মধ্যে দুটি গরুর কাজ করেছেন মামার সঙ্গে, বাকি দুটি নিজেই চুক্তি নিয়ে।

একটি গরু কেটে কত আয় হয় জানতে চাইলে শামীম বলেন, ঈদের দিন সকালে রেট একটু বেশি থাকে। সকালে গরু কাটার জন্য হাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়। অর্থাৎ এক লাখ টাকা দামের একটি গরু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার কাজ করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে দুপুরের পর রেট কমে যায়। তখন হাজারে ১০০ টাকা হিসাবে কাজ করতে হয়।

একটি গরুর কাজ শেষ করতে কত সময় লাগে—এমন প্রশ্নে শামীম বলেন, সকালে শরীরে শক্তি থাকে। তখন এক থেকে দেড় ঘণ্টায় একটা গরুর কাজ শেষ করা যায়। কিন্তু দুপুরের পর শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টাও লাগে।

শামীম জানান, খাসির আকার অনুযায়ী প্রতিটি খাসি কাটার জন্য দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়। ঈদের দিন মোট কত আয় হবে, তা এখনো নিশ্চিত নন তিনি। কারণ, প্রথম দুটি গরুর কাজ করেছেন ‘উস্তাদের’ সঙ্গে। সেখান থেকে কত পাবেন, তা মামাই ঠিক করবেন। তবে নিজের চুক্তিতে করা দুটি গরুর কাজ থেকেই প্রায় ১৯ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। এই টাকার মধ্য থেকেই সঙ্গে থাকা দুই সহযোগীর পারিশ্রমিক দিতে হবে।

শামীমের সঙ্গে কাজ করা সোহাগ হোসেন পেশায় একজন পিকআপ ভ্যানের চালক। ঈদের দিন অতিরিক্ত আয়ের আশায় কসাইদের সঙ্গে মাংস কাটার কাজ করেন। তিনিও থাকেন ভাসানটেক বস্তিতে। সোহাগ বলেন, একটি গরুর মাংস কাটার কাজ করে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পাওয়া যায়, কোনো কোনো গরুতে ১ হাজার ২০০ টাকাও মেলে। গত বছর ঈদের দিন সাতটি গরুর কাজ করে প্রায় ৬ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে পেয়েছিলেন কয়েক কেজি মাংস।

আরেক সহযোগী আল আমিনের পেশা গাড়িতে মালামাল ওঠানো-নামানো। সদরঘাট এলাকায় সপ্তাহজুড়ে কাজ করেন, ঈদের ছুটিতে এসেছেন পরিবারের কাছে। তিন বছর ধরে ঈদের সময় মাংস কাটার কাজ করছেন। গত কোরবানিতে সাড়ে চার হাজার টাকা আয় হয়েছিল তাঁর।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun