1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইসলামাবাদের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণে ১৫ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপে আরও বেপরোয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ইরান ভারত সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ চূড়ান্ত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পাহাড় ও সরকারি জমি দখল: বরইতলীতে পরিকল্পিত ভূমিদস্যুতার চিত্র না ফেরার দেশে কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন ঢাকা-যশোর রুটে আবারও ফ্লাইট শুরু করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রেক্ষাপট: মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার পদে রদবদল: নতুন দায়িত্বে মু. মাহবুবুর রশীদ শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রংপুরে শিক্ষক পরিবারে মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপির মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের পাহাড় ও সরকারি জমি দখল: বরইতলীতে পরিকল্পিত ভূমিদস্যুতার চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বরইতলী এলাকায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল কিছু অবৈধ বসতি গড়ে ওঠার বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সরকারি ভূমি দখল, নির্বিচার পাহাড় কাটা এবং একটি সুপরিকল্পিত ভূমিদখল চক্রের ক্রমবিস্তারের এক গুরুতর সতর্কসংকেত। বরইতলীর প্রায় ৯৪ দশমিক ৪৫ একর খাসজমির একটি বড় অংশে ইতিমধ্যে বসতি গড়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু বরইতলীতেই তিন শতাধিক পরিবার বসবাস করছে এবং আশপাশের পাহাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে আরও কয়েক শ ঘর।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বসতি স্থাপনের পাশাপাশি পাহাড় কেটে ছোট ছোট প্লট তৈরি করে তা অর্থের বিনিময়ে হাতবদল করা হচ্ছে। এই এলাকায় বসবাসরত অন্তত ৩০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কারও কাছেই জমির বৈধ মালিকানার কোনো দলিল নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর এলাকাটি পরিদর্শন করে ১৪টি স্থানে পাহাড় কাটার প্রমাণ পেয়েছে এবং প্রায় ১৮ হাজার ৯৯৪ ঘনফুট পাহাড়ি মাটি কাটার তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাহাড় কাটার এই প্রবণতা কেবল পরিবেশগত বিপর্যয়ই ডেকে আনছে না, বরং ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে বরইতলীতে কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। চলতি বছরের জুনে অভিযোগ পাওয়ার পর ভূমি অফিস এলাকাটি পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর ৪ আগস্ট ১৪ জনকে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। তবে কেবল জরিমানা করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা সম্ভব নয় এবং কাটা পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা বহাল থাকলে এ ধরনের শাস্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

অবৈধ দখলদারদের মধ্যে নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের উপস্থিতি থাকলেও, তাদের আড়ালে কোনো প্রভাবশালী চক্র সরকারি জমি ও পাহাড়ের বাণিজ্য পরিচালনা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেবল বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং নেপথ্যের ভূমিদস্যু, দালাল ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারি জমি কীভাবে অবৈধভাবে লিজ বা বিক্রি হচ্ছে, সেই রহস্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের অভিজ্ঞতার মতো বরইতলী যেন বিশাল জনপদে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে এখনই সতর্ক হতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে চারটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, বরইতলী ও দক্ষিণ পাহাড়তলীর সরকারি জমির পূর্ণাঙ্গ জরিপ সম্পন্ন করা। দ্বিতীয়ত, নতুন করে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং ইতিমধ্যে কাটা পাহাড়ে নতুন বসতি স্থাপনের সুযোগ না দেওয়া। তৃতীয়ত, সরকারি জমি দখল ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও ভূমি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। চতুর্থত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি প্রকৃত অসহায় পরিবারগুলোর জন্য মানবিক ও আইনসম্মত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

সবশেষে, ভূমি প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহির মাধ্যমে এই এলাকাকে পুনর্দখলের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিবেদনে কথা বলা অন্তত ৩০ জন বাসিন্দার কেউই বৈধ মালিকানার দলিল দেখাতে পারেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটি হচ্ছে, এত দিন ধরে এসব কীভাবে চলল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ক্ষেত্রে জঙ্গল সলিমপুরের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য যথেষ্ট সতর্কবার্তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েক দশকে তা বিশাল জনপদে পরিণত হওয়ায় পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অতএব, জঙ্গল সলিমপুরের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর এটাই উপযুক্ত সময়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun