1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দামুড়হুদায় অবৈধ দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন জীবননগর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৪৬ বোতল এসকাফসহ যুবক আটক ‎‎‎ধামরাইয়ে পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার সাভারে মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন‎‎ ‎ যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার ধামরাইয়ে সমাবেশ ও র‍্যালি‎ সাত দিনের মধ্যে পোশাকশিল্পের মজুরি বোর্ডের গেজেট: শ্রমমন্ত্রী পিংক সাইকেল চালিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কিশোরীদের উৎসাহ দিলেন গাজীপুরের ডিসি গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট বিদেশে কর্মসংস্থানে আস্থার সংকট কাটাতে কাজ করছে আনসার-ভিডিপি দামুড়হুদায় নারী সংক্রান্ত বিরোধে একজনকে কুপিয়ে জখম, ঘটনাস্থলে এএসপি-ওসি

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপে আরও বেপরোয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ইরান

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

ইরানের অর্থনীতিকে কোণঠাসা করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই নীতি তেহরানকে নতি স্বীকার করানোর পরিবর্তে উল্টো আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইরানের অর্থনৈতিক সংকট যত গভীর হচ্ছে, দেশটির নেতৃত্বের পক্ষ থেকে পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিও ততই বাড়ছে।

তেহরান মনে করছে, নতুন এই অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু এর ফলে তেলসমৃদ্ধ এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সংঘাতের মাত্রা ও মূল্য উভয়ই বেড়ে যেতে পারে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিনা তৌসি বলেন, ওয়াশিংটন যত বেশি তৃতীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ দেবে, ততই তেহরানের সামনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রণোদনা বাড়বে। ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়ায় যারা অংশ নেবে, তাদেরও যে মূল্য দিতে হবে, সেটিই দেখাতে চাইবে তেহরান। তবে এই চাপ প্রয়োগের বিস্তারিত কৌশল সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

গত কয়েক মাসে সরাসরি সামরিক সংঘাত কিছুটা কমলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াই মূলত অর্থনৈতিক ধৈর্যের পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে। ইরানের তেল আয় কমিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই অভিযানে স্বর্ণ, ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল ও জাহাজ পরিবহন খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নতুন মার্কিন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে তুরস্ক, ইরাক, রাশিয়া ও চীনের মতো ইরানের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের অবস্থানের ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন অর্থনৈতিক অভিযানকে সামরিক পরিভাষায় ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও সামরিক ভাষায় জবাব দিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, এই অর্থনৈতিক চাপ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলারই একটি নতুন ধাপ।

মঙ্গলবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের লজিস্টিক বিভাগের প্রধান মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তার ওপর এই চাপ যুদ্ধেরই অংশ। তাই নিজেদের রক্ষায় তারাও যুদ্ধের ক্ষেত্র বাড়াবেন। এছাড়া ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন উদ্যোগে যোগ দিলে ওই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বের হতে দেওয়া হবে না এবং এসব দেশকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হবে।

ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। দেশটির তেলমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, নৌ অবরোধের কারণে তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে। দোনিয়া-ই-এঘতেসাদ পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে রিয়ালের মান ৪১ শতাংশ কমেছে। মুদ্রার দরপতন ও মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে; কিছু ওষুধের দাম বেড়েছে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত। জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, যা ২০১৯ সালের মতো অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ দাবি করেছেন, নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় সরকারের দুই বছরের একটি গোপন পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞ এলি গেরানমায়েহ মনে করেন, বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিষেধাজ্ঞা মানলেও আন্তসীমান্ত গোপন বাণিজ্য নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। এছাড়া চীন সহজে মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ পেইমান মোলাভি ও বোর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের প্রধান এসফানদিয়ার বাটমাঙ্গেলিদজ মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞার মূল খেসারত সাধারণ ইরানিদেরই দিতে হবে, অথচ ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠরা ছায়া অর্থনীতি থেকে লাভবান হতে পারে। বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলি শাবানি যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলকে ‘নির্মম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনের পর ইরানিদের ওপর নতুন এই চাপ আরও নিষ্ঠুর মনে হতে পারে। সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিক সংকট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সামনে এখন কঠিন এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যেখানে নতি স্বীকারের চেয়ে কঠোর পথে যাওয়ার ঝুঁকিই বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কে দীর্ঘ সময় এই চাপ সহ্য করতে পারবে, আর কে আগে পিছু হটবে—সেটিই বড় প্রশ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েক দশকের মধ্যে এই আন্দোলন ইরানের ধর্মভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব আরো বেড়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun