1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ বন্ধে শি সহায়তা করতে চান: ট্রাম্প

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বেইজিংয়ে দুই নেতার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য জানিয়েছেন। 

ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না এবং জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালির ওপর কোনো প্রকার সামরিক নিয়ন্ত্রণ বা টোল আরোপের ঘোর বিরোধী বেইজিং।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বৈঠকের সারসংক্ষেপে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছেন শি জিনপিং। চীন মূলত নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে আগ্রহী, কারণ দেশটি ওই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। তবে ভবিষ্যতে এই নির্ভরতা কমাতে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল, এলএনজি এবং সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া বেইজিং ২০০টি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও সস্মতি জানিয়েছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এই সমঝোতাপূর্ণ পরিবেশের আড়ালে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে দুই নেতার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য ও উত্তাপ লক্ষ্য করা গেছে। শি জিনপিং অত্যন্ত কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং এই বিষয়ে সামান্য ভুল পদক্ষেপ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ট্রাম্প যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক চুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন, সেখানে শি জিনপিং দুই পরাশক্তির মধ্যে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ এবং সংঘাত এড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধে চীনের অবস্থান অত্যন্ত প্রভাবশালী। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় তাদের মধ্যস্থতার প্রস্তাবটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বেইজিং তাদের এই প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য পারমাণবিক চুক্তিতে সই করতে রাজি করাবে। 

যদিও চীনের সরকারি বিবৃতিতে ইরান প্রসঙ্গটি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশই জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে একমত হয়েছে। বেইজিং সফরকালে ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘একজন মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে সহযোগিতার নতুন দুয়ার খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun