বাংলাদেশের ফুটবলে হ্যাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায় শেষে। জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ কে হচ্ছেন? দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে আলোচিত। শুক্রবার (১৫ মে) নতুন কোচের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। তবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে নতুন কোচের নাম জানতে। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে করেছিলেন একাধিক হাইপ্রোফাইল কোচ। বাফুফে সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কোচ হতে ২৩০টি আবেদন জমা পড়েছিল। আবেদনকারীদের মধ্যে ১৭০ জনই ছিলেন উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ। দীর্ঘ যাচাই–বাছাই শেষে বাফুফে তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের নতুন কোচ হতে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যান ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন এবং কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। তার পাশাপাশি আলোচনায় আছেন জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলেছেন এবং কোচিং স্টাফেও ছিলেন। তিনি হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের জাতীয় দলের দায়িত্বেও ছিলেন। বাফুফের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুজনের মধ্যে একজনের সম্ভাবনাই বেশি। শুক্রবার (১৫ মে) পল্টনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে ব্যাডমিন্টন লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে জাতীয় দলের কোচ ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বাফুফে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবং তাদের যে টিম রয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু কোচদের একটি শর্ট লিস্ট হয়েছে। আমি আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই আপনারা জানতে পারবেন নতুন কোচের নাম।’ কোলম্যান তার সহকারী কোচ কিট সিমন্সকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী। দুজনের জন্য মাসিক সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা)। এর মধ্যে কোলম্যানের বেতনই ২৬ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ লাখ ৯২ হাজার টাকা)।
বাজেট সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রাতারাতি কোনো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যে কোচ আসুক না কেন, তাকে একটি নির্ধারিত সময় দেওয়া উচিত। আমরা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, একটু অপেক্ষা করেন, আপনারা কাঙ্ক্ষিত ফল জানতে পারবেন।’
ক্রীড়া ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ ও বাজেটের অপ্রতুলতা প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাজেট আমাদের চিন্তাভাবনার তুলনায় অপ্রতুল। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি এবং আশা করি আগামী অর্থবছরে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বাজেটের একটি বৃহৎ অংশ নতুনভাবে বাস্তবায়িত হবে।’