1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বদলি প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার: ববি হাজ্জাজ ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন দুই হাত হারানো নূরুল আমিন নারায়ণগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসলে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জিয়াউর রহমানের কর্ম ও আদর্শ নিয়ে উঁচুমানের গবেষণার আহ্বান মির্জা ফখরুলের গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়াই: তথ্যমন্ত্রী মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে হাম রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউ সেবা চালু ঢাকার খালগুলোর সীমানা চিহ্নিত করতে পৃথক দুটি কমিটি গঠন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাতক্ষীরায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু  ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ: গণমাধ্যম অস্ট্রেলিয়া-স্কটল্যান্ডের জয়; ড্র করল সুইজারল্যান্ড-কাতার

আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু অধিকারী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেনৎ সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়লাভের পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে যেখান থেকে এসেছিল সেই রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি মন্তব্য করেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বাংলাদেশের জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বা অস্বস্তি অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ভয় পাওয়ার বা মাথা নোয়ানোর লোক নন এবং বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই মুখ্যমন্ত্রী তা পূরণ করবে। তার সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশ রক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে। এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত রোববার (১৭ মে) কলকাতার পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছোড়ার ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে এবং আহত তিন পুলিশকর্মীর সঙ্গে দেখা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, গুন্ডামি, তোলাবাজি কিংবা সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অশান্তির ঘটনায় রাজ্য সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা এই ক্ষতি করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে ‘২০০ শতাংশ উসুল’ বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।

একই দিনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে পরিচালিত সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের কাজ কি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়া, নাকি শিক্ষার উন্নতি ও চাকরির ব্যবস্থা করা? তিনি জানান, ভাতার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন থেকে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে দেওয়া হবে, যাতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো তোষণের রাজনীতি চলবে না।

অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে চারটি বুথ রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই মমতা হেরেছেন এবং বিজেপি লিড পেয়েছে। যে নেত্রী নিজের বুথেই জিততে পারেন না, রাজ্যের মানুষ তাকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। একই সাথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিসহ চারজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাদের একাধিক সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজরা এতদিন ধরে যা লুটপাট করেছে, আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে তাদের কারাগারে পাঠানোর কাজ করা হবে। অবসান ঘটবে গত ১৫ বছরের বিধায়কদের নিষ্ক্রিয়তার এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুতই একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun