যাত্রী পরিবহনের পর এবার সরাসরি পণ্য পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই। আগামী ১ অক্টোবর থেকে তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মালবাহী উড়োজাহাজ নিয়ে সংস্থাটি নিজেদের কার্গো কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। সলিটএয়ারের সঙ্গে করা ওয়েট-লিজ চুক্তির আওতায় পরিচালিত এসব উড়োজাহাজের প্রধান ঘাঁটি হবে দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল (ডিডব্লিউসি)। নতুন এই হাবের মাধ্যমে সংস্থাটি দুবাই সাউথের উন্নত অবকাঠামো ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
প্রতিটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ প্রতি ফ্লাইটে প্রায় ২৩ হাজার কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে সক্ষম। নিজস্ব কার্গো উড়োজাহাজগুলোর পাশাপাশি ফ্লাইদুবাইয়ের বিদ্যমান ৯৮টি যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডেও পণ্য পরিবহন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এতে করে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, ককেশাস, ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ ১২৫টিরও বেশি গন্তব্যে নিয়মিত এবং চার্টার ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। ওষুধ, পচনশীল পণ্য, যন্ত্রাংশ, জীবন্ত প্রাণী ও বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনে এই নতুন বহর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্লাইদুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাইথ আল গাইথ জানান, এই নতুন উদ্যোগ দুবাইকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ই-কমার্স হাব হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সংস্থাটির প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হামাদ ওবাইদাল্লাহ বলেন, বর্তমানে গ্রাহকদের মধ্যে মূল ডেকের কার্গো সক্ষমতা এবং বিশেষায়িত পণ্য ব্যবস্থাপনার চাহিদা বাড়ছে, যা পূরণে নতুন এই সেবা কার্যকর হবে।
ভবিষ্যতে মালবাহী সক্ষমতা আরও বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। বর্তমানে ফ্লাইদুবাইয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ৩০টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার। পাশাপাশি ২০২৯ সাল থেকে যাত্রী পরিবহনের উড়োজাহাজগুলোকে মালবাহী মডেলে রূপান্তরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বহুমুখী উদ্যোগ দুবাইয়ের ক্রমবর্ধমান কার্গো ও লজিস্টিকস বাজারে সংস্থাটির শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুরুতে বেশি চাহিদাসম্পন্ন আঞ্চলিক বাজারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাহিদা ও সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।