ইউরোপীয় ইউনিয়ন বুধবার এমন একটি অভিবাসন সংস্কার চুক্তিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার আওতায় জোটের বাইরে তথাকথিত ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপন করা হবে।
কয়েকটি সদস্য দেশ ইতোমধ্যেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে।
২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় নতুন করে কঠোর অভিবাসন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলো বুধবার এ বিষয়ে একমত হতে পারে।
ব্রাসেলস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের মধ্য-ডানপন্থী আইনপ্রণেতা ও প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের বেলামি বলেন, ‘এটি শুধু আরেকটি আইন নয়, ইউরোপে অভিবাসন নীতির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের শর্তও এটি।’
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচিত এই ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত অভিবাসীদের পাঠানো যেতে পারে।
এতে যারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে আটক ও প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার বিষয় রয়েছে।
ফ্রান্স ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশ এসব রিটার্ন সেন্টারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) নামের একটি এনজিও এগুলোকে ‘আইনি অন্ধকার গহ্বর’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অলিভিয়া সান্ডবার্গ দিয়েজ বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসন কমানোর যে দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে এই প্রস্তাব তা সমাধান করবে না। বরং আরও বেশি মানুষকে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আটকে ফেলবে এবং অভিবাসী ও তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের ক্ষতি করবে।’
সমালোচনা সত্ত্বেও ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ রিটার্ন হাব স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা অব্যাহত রেখেছে।
এএফপিকে এপ্রিল মাসে সূত্র জানিয়েছিল, রুয়ান্ডা, উগান্ডা ও উজবেকিস্তানসহ প্রায় এক ডজন দেশকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরে একটি সূত্র জানায়, কয়েকটি দেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ চলছে।
ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী জনমত শক্তিশালী হওয়ায় এবং তাতে কট্টর ডানপন্থীদের নির্বাচনী সাফল্য বাড়ায় ইউরোপীয় সরকারগুলো আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
অভিবাসী আগমন কমে আসায় এখন ব্রাসেলসের নজর প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা জোরদারে।
বর্তমানে যাদের ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তাদের মাত্র ২০ শতাংশ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় কমিশন চলতি মাসে তালেবান কর্মকর্তাদের ব্রাসেলসে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। উদ্দেশ্য আফগানিস্তানে অভিবাসী ফেরত পাঠানো। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবতা ও নৈতিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে।
রিটার্ন হাবের মাধ্যমে যেসব অভিবাসীর ইউরোপে থাকার অধিকার নেই, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত সেখানে রাখা হতে পারে।
এতে বহিষ্কার প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।
অস্ট্রিয়া এপ্রিল মাসে ঘোষণা দেয়, তারা এ বিষয়ে উজবেকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি করবে। বিশেষ করে আফগানদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তাদের লক্ষ্য।
সমর্থকদের দাবি, রিটার্ন হাব সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য নিরুৎসাহক হিসেবে কাজ করবে এবং ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা কমাবে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, একই ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা বাধা দেখা গেছে।
যুক্তরাজ্য অবৈধ অভিবাসীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছে। অন্যদিকে আলবেনিয়ায় ইতালির পরিচালিত অভিবাসী প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলো আইনি জটিলতা ও ধীরগতির কারণে সমস্যায় পড়েছে।
ইইউ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে যদি সদস্য রাষ্ট্র ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা এ সংস্কারে সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার আগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ইউরোপীয় কাউন্সিল ও পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে।