একাধিক হত্যা, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোয়েব বিশ্বাসকে নবগঠিত কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সোয়েব বিশ্বাস, পিতা হাজী মিজানুর রহমান, বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডি গ্রামে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ দৌলতপুর উপজেলা শাখার ২নং সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় ২০ মাস ধরে তিনি নিজেকে বর্তমান বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ভাগিনা পরিচয় দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজিতে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ বিকেলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল হক চৌধুরী এবং উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ চৌধুরীর বাড়িতে হামলার নেতৃত্ব দেন সোয়েব বিশ্বাস। স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, ওই হামলা বর্তমান বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার নির্দেশে পরিচালিত হয়।
এছাড়াও, ৩০ আগস্ট ২০২৪ রাত ১০টা ২০ মিনিটে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রাব্বির ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলার ঘটনায়ও সোয়েব বিশ্বাসকে প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গুরুতর আহত রাব্বি পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, নিহত রাব্বি ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে উপজেলা যুবলীগের সমাবেশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। রাব্বি হত্যা মামলা নং- ১৫০৯/২৫ বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফেসবুকে “জয় বাংলা” লেখাকে কেন্দ্র করে সোনাইকুন্ডি গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী মোঃ নাইম মন্ডলের বাড়িতে হামলা, নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে সোয়েব বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে নিজ বাড়িতে বসবাস করছে।
একইভাবে, হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের জয় ইসলাম নামের এক যুবককে “অবৈধ ইউনুস সরকারের পাতানো নির্বাচন মানি না, মানবো না” স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি এলাকা ছাড়া বলে জানা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সক্রিয় এক নেতাকে কীভাবে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করা হলো এবং কারা তাকে দলে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিলেন—তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদ দেওয়ায় ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।