চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানাধীন যাদবপুর গ্রামের আবু জাফর বিশ্বাস এর যাদবপুর দক্ষিণ মাঠে সেচের কাজে ব্যবহৃত গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক খুঁটি হতে গত ০৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা চোর/চোরেরা পরস্পর যোগসাজশে রাতে যেকোন সময় সঙ্গোপনে বৈদ্যুতিক লাইনে সংযুক্ত ৩টি (প্রতিটি ১০ কেভি) ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ তামার তার ও তেল চুরি হয়। একই রাতে পাশের অপর একটি সেচ প্রকল্প থেকেও আরও ০১টি ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ মালামাল চুরি করা হয়। বর্ণিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জীবননগর থানার মামলা নং-০৪ তারিখ ০৩ জুলাই ২০২৬ ধারা-৩৭৯ পেনাল কোড রুজু হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান মহোদয় তাৎক্ষণিকভাবে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জীবননগর থানাকে মামলার রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)-এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, সাব-ইন্সপেক্টর আশিকুর রহমান, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মো. রজিবুল হক, আরিফুল ইসলাম এবং জীবননগর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শোভন দাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত ০৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ০১:২৫ ঘটিকায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন খোলামোড়া মডেল টাউন এলাকা থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি পিকআপসহ আব্দুল মালেক (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ০৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে শিপলু হোসেন, তসলিম ওরফে টুলু, স্বপন উদ্দিন, সবুজ শেখ এবং জাফর আহম্মেদ-কে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে আন্তঃজেলা সক্রিয় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের মোট ০৬ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেচ প্রকল্প ও বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমার, তার চুরি করে এর অভ্যন্তরীণ তামার তার ও তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করত। চক্রের সদস্যদের মধ্যে কেউ চুরির পরিকল্পনা, কেউ রেকি, কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং কেউ চোরাই মালামাল পরিবহন ও বিক্রির দায়িত্ব পালন করত।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম ঠিকানা
১. আব্দুল মালেক (৪৫), পিতা- মৃত আনোয়ার হোসেন, সাং- চাষিড়ি, থানা- টংগীবাড়ী, জেলা- মুন্সিগঞ্জ; বর্তমানে খোলামোড়া মডেল টাউন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।
২. স্বপন উদ্দিন (৩৭), পিতা- মো. মজিবর রহমান, সাং- গাড়াবাড়ীয়া, থানা ও জেলা- চুয়াডাঙ্গা; বর্তমানে কাথুলী, চুয়াডাঙ্গা।
৩. শিপলু হোসেন (২৮), পিতা- মৃত জাহিদ শেখ, সাং- ফার্মপাড়া, থানা ও জেলা- চুয়াডাঙ্গা।
৪. সবুজ শেখ (৩৭), পিতা- মিজানুর রহমান, সাং- গাড়াবাড়ীয়া, থানা ও জেলা- চুয়াডাঙ্গা।
৫. জাফর আহম্মেদ (৩৮), পিতা- আব্দুল গফুর, সাং- জাফরপুর, থানা ও জেলা- চুয়াডাঙ্গা।
৬. তসলিম ওরফে টুলু (৪৪), পিতা- মৃত কাশেম খাঁ, সাং- শাখোহালী, থানা- কাহালু, জেলা- বগুড়া; বর্তমানে ফার্মপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
জব্দকৃত আলামত
ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ ও মাইক্রোবাস।
গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং তাদের সম্পৃক্ত অন্যান্য অপরাধের তথ্য সংগ্রহপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর। জনগণের জানমাল রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।