বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগে অনিয়ম, জাল-জালিয়াতি, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁর নামে -বেনামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের করেছেন,
অভিযোগ কারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রহিম বিভিন্ন কাজের নিয়ন্ত্রণ, ভুয়া বীল ভাউচার তৈরি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করবার চেষ্টা করিলে কোনো রকমের যোগাযোগ কিংবা বক্তব্য পাওয়া যায়নি,
অভিযোগে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা দপ্তরের অধীন ২৫০ টন উত্তোলন ক্ষমতার উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ দীর্ঘ সময় নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটে অবস্থান করলেও নথিপত্রে সেটিকে সচল দেখিয়ে জ্বালানি ব্যবহারের নামে বিপুল অর্থের বানিজ্যের
অভিযোগকারীদের দাবি, জাহাজটির প্রকৃত পরিচালনা ও জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে নথিতে দেখানো ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানেও নথিপত্রে গরমিলের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন প্রকল্পে বয়া-বিকন বাতি, নৌযান মেরামতসহ নানা কাজের নামে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে যেসব বিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আখি এন্টারপ্রাইজ: টিপি-১৩৫-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
তানিয়া এন্টারপ্রাইজ: এমপি-১২-এর বিল বাবদ ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং স্পিড বোট-১ মেরামতের নামে ৮ লাখ ৮১ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
তানজিল ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস: টিপি-৮০-এর বিল বাবদ ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা এবং টিপি-১৭৩-এর নামে ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
আলিফ এন্টারপ্রাইজ: টিপি-৪৫-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য মোতাবেক, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানোর ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।
আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগে ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া ও পাবনায় বিপুল সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর মুগদায় একাধিক ফ্ল্যাট, আশুলিয়ায় ভবন, সাভারে বহুতল ভবন ও দোকান, মোহাম্মদপুরে জমি এবং অন্যান্য এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কেরানীগঞ্জ এলাকায় একজন ঠিকাদারের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় বড় একটি ডকইয়ার্ড থাকার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে এসব সম্পদের মোট মূল্য কয়েকশ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আব্দুর রহিম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁকে বরিশালের ডিইপিটিসিতে প্রিন্সিপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে
তাঁদের দাবি, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু বদলি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাত, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।