চীনের উত্তরাঞ্চলে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৮২ জনের প্রাণহানির পর, নিখোঁজ দুই শ্রমিকের সন্ধানে রোববার বড় ধরণের উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শুক্রবার শানসি প্রদেশের লিউশেনইউ খনিতে এ বিস্ফোরণের সময় ভূগর্ভে ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা।
চীনের ছিনইউয়ান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
কয়েক শত উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে ও স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শনিবার রাতে খনির দিকে যাওয়ার সড়কে পুলিশের কড়া অবস্থান দেখা গেছে। অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপির সাংবাদিকরা।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হেলমেট পরা উদ্ধারকর্মীরা পালাক্রমে রাতে খনির ভেতরে নেমে নিখোঁজ দুই শ্রমিকের খোঁজ করেন।
এক উদ্ধারকর্মী রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, ‘যতক্ষণ আশা আছে, আমরা সম্ভাব্য সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
চীনা কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। ২০০৯ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশে খনি বিস্ফোরণে ১০৮ জনের মৃত্যুর পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী খনি দুর্ঘটনা।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিতে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ জানায়, খনিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘গুরুতর অবৈধ কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এ ঘটনার জন্য দাযী ব্যক্তিদের আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে চীনে খনি নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও দুর্ঘটনা ঘটে। কারণ, এ খাতে অনেক সময় নিরাপত্তা বিধি শিথিলভাবে মানা হয় ও নিয়মকানুনও অস্পষ্ট থাকে।
২০২৩ সালে উত্তরাঞ্চলীয় ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত কয়লাখনি ধসে ৫৩ জন প্রাণ হারান।
চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশও।
যদিও দেশটি রেকর্ড গতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।