1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে হাম রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউ সেবা চালু ঢাকার খালগুলোর সীমানা চিহ্নিত করতে পৃথক দুটি কমিটি গঠন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাতক্ষীরায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু  ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ: গণমাধ্যম অস্ট্রেলিয়া-স্কটল্যান্ডের জয়; ড্র করল সুইজারল্যান্ড-কাতার আছিয়া ও রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স  অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি চাইলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ময়মনসিংহে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের মিনি হাইজিন পার্সেল বিতরণ নোয়াখালীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই ভাই নিহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের বাগেরহাট জেলা কমান্ডার আকবর আজাদের ইন্তেকাল লালমনিরহাট চেম্বারের নির্বাচনে সভাপতি পদে সেলিম সবুজের জয়

বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা!

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মতুয়া সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ ভারতে এসেছিলেন, তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয় বরং ‘শরণার্থী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে দিয়ে আসছে বিজেপি। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরও মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—তারা আদৌ ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন কি না, তা নিয়ে।

এই অনিশ্চয়তার জন্ম হয়েছে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক ঘোষণাকে ঘিরে। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সেই উদ্বেগ ও প্রশ্নগুলো নিয়ে সোমবার বৈঠকে বসেন রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। উল্লেখ্য, তিনি নিজেও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতারা বারেবারে এই আশ্বাস দিয়ে এসেছেন যে ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে (সিএএ) আবেদন করলে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু ‘শরণার্থী’রা নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। সরকার গঠনের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ তার রাজ্যের পুলিশ আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে যাতে সেই কথিত অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘যারা ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন, কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সিএএ-এর আওতায় পড়েন না, তারা “পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী”। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে, আটক করবে এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। বিএসএফ বিডিআরের (বিজিবির পুরোনো নাম) সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট, এবং ডিপোর্ট।’ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে মি. অধিকারী ওই বাহিনীর পুরোনো নাম বিডিআর বলেই উল্লেখ করেছিলেন। ওই ঘোষণায় এটা স্পষ্ট নয় যে ‘সিএএ- এর আওতায় পড়েন না’- এই কথাটির অর্থ কি এই যে, যারা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী আবেদন করেননি, তাদেরই কথিত অনুপ্রবেশকারী বলা হবে? আবার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যে নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তাতে নাম বাদ পড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটা বড়ো অংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের। তাই মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এই ভেবে যে তাদেরও কি তাহলে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে কথিত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে?

মতুয়া মহাসংঘের আয়োজিত একটি বাইক মিছিল

সোমবার এই সব প্রশ্নের জবাব দিতেই মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় একশো জন মানুষ।

মতুয়াদের কী আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী?

মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘মতুয়া সম্প্রদায়ের কোনো উদ্বাস্ত মানুষ, যারা ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে এসেছেন, তাদের কাউকে ফের উদ্বাস্তু হতে হবে না। আমি মতুয়াদের বলেছি, আপনাদের প্রতিনিধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করুন ও আপনদের দাবি তুলে ধরুন।’ মতুয়াদের ‘ধর্মগুরু’ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও বিজেপির বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা এবং আমাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে অনেক ভুল বুঝিয়েছিলেন। সিএএ তে আবেদন করা নিয়ে মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু মানুষ সত্য বুঝতে পেরেছেন, তাই আজ আবার মতুয়াদের অনেকেই সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করছেন।’ নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে শিবিরও শুরু করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে মতুয়া মহাসংঘের সদস্যরা

তার কথায়, ‘আমাদের বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই, আমি নিজেই, আবার সিএএ ক্যাম্প চালু করেছি। এসআইআরের সময়েও এই ক্যাম্পে অনেক মানুষকে এই আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’ ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন, তারা ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতায় পড়েন না।

দিতে হবে বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় নিপীড়নের’ প্রমাণ

সিএএ-এর তালিকাভুক্তি পর্ব চলার সময়, পশ্চিমবঙ্গে মতুয়াদের মূল কেন্দ্রস্থল ঠাকুরনগরে বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ কিছু সহায়তা শিবির গড়ে উঠেছিল। সেখানে সিএএ-এর অনলাইন আবেদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় হলফনামা এবং মতুয়া ঠাকুরবাড়ির উদ্যোগে হিন্দু সনদ এবং মতুয়া সনদ সংগ্রহের জন্য সব মিলিয়ে ভারতীয় মুদ্রায় ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। মতুয়াদের বক্তব্য ছিল, এই সনদগুলো তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত নয়ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ দেয় যে, সিএএ-এর আওতায় অধিকার প্রদান বিষয়টি নির্ভর করবে আবেদনকারীর ধর্মীয় নিপীড়নের হাত থেকে পালিয়ে আসার দাবির সত্যতা যাচাই করার ওপর। অর্থাৎ, মতুয়া সমাজের সদস্যদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে বাংলাদেশ থেকে ‘ধর্মীয় নিপীড়ন’-এর শিকার হওয়ার প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। মতুয়া গোষ্ঠীর সদস্য ঠাকুরনগরের বাসিন্দা একজন ব্যক্তি বলেছেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মানুষ আবার সজাগ হয়েছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন হয়তো এবার কেন্দ্র আর রাজ্যের সম্মিলিত উদ্যোগে তাদের নাগরিকত্বের সমস্যা মিটবে। কিন্তু বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে কি না সেটা সময় বলবে।’ সঞ্জয় বিশ্বাস নামে তৃণমূল কংগ্রেসপন্থি একজন মতুয়া নেতা বলছেন, ‘বাংলাদেশের জমির দলিল অনেকের কাছেই নেই। সেটা সিএএ-এর আবেদনে একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক আবেদনকারী আবার তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পা পরিচয়পত্র সারেন্ডার করতে চাইছেন না।’ ফলত এটা পরিষ্কার যে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় অনেকের মনেই বাস্তব দুশ্চিন্তার রূপ নিয়েছে। সঞ্জয় বিশ্বাস জানাচ্ছিলেন, ‘মানুষের মনে এ নিয়ে বিভ্রান্তি অনেক। এখন এমন পরিস্থিতি, যে সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন না করলে হয়তো আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে বা বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেবে। যারা নাগরিকত্ব পাননি এবং যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে এসআইআরের সময়ে বাদ গিয়েছে, তাদের মনে আরও বেশি করে ভয়।’ মতুয়া ও দলিত অধিকার নেতা বলে পরিচিত সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস বলছিলেন, ‘সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যে সব তথ্যপ্রমাণ ও কাগজপত্র দরকার, তা অধিকাংশ মানুষের কাছেই নেই। যার ফলে ভবিষ্যতে ভুয়া নথি তৈরি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ‘সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে প্রমাণ করতে হবে। ফলে, পরবর্তীকালে যদি তার আবেদন গৃহীত না হয়, তাহলে তিনি সিএএ থেকে বাদ পড়বেন ও “অনুপ্রবেশকারী” বলে তাকে বিবেচনা করা হতে পারে।’ আবার এখনো পর্যন্ত কতজন সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করে ভারতের নাগরিক হয়েছেন, সে ব্যাপারেও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। রাজ্যসভায় ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, সিএএর অধীনে ‘হাজার হাজার মানুষ’ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। যদিও এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য সুস্মিতা দেব রাজ্যসভায় দাবি করেন, মাত্র ৩৫০ জন মানুষ সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun